সোমবার ২১শে অক্টোবর ২০১৯ সকাল ০৬:৫৫:৫৩

Print

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া : ‘শিল্পায়নবিরোধী সিদ্ধান্ত এটি’গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : সোমবার ১লা জুলাই ২০১৯ সন্ধ্যা ০৬:০৭:২৭, আপডেট : সোমবার ২১শে অক্টোবর ২০১৯ সকাল ০৬:৫৫:৫৩,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৯৭ বার

গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি দেশের শিল্প খাতকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নেতারা।

তাদের মতে, এতে দেশের রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে। কমবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প যেমন টেক্সটাইল, স্পিনিং মিলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তখন তৈরি পোশাকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিকভাবে রফতানি খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। একবারে এত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত শিল্প খাতের জন্য ভালো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ঘন ঘন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আসতে চাইছেন না। শিল্পের জন্য জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা দরকার, যাতে আগামী ১০ বছরে শিল্পে জ্বালানির দাম কত বাড়বে, তা উল্লেখ করা হবে। তখন উদ্যোক্তারা ওই নীতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে। এমনিতে কারখানায় গ্যাসের সঠিক চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। চাপের তারতম্যের কারণে যন্ত্রপাতিতে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন।

বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, নিট রফতানি খাত কঠিন সময় পার করছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের মূল্য হ্রাস ও ইউরোর দরপতনের কারণে নিট খাত ধুঁকছে। এখন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সুতার দাম বাড়লে নিট খাতের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে ব্যবসা করা কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থায় যাবে।

রফতানিকারক সমিতির (ইএবি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের এত দাম বৃদ্ধি ‘চরম শিল্পায়ন বিরোধী সিদ্ধান্ত’। তিতাসের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বছরের পর বছর বিল না দিয়ে অনেকে ব্যবসা করছেন।

আর তিতাস সেটি বন্ধ না করে সৎ ব্যবসায়ীদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। তিতাসে যে লুটপাট হচ্ছে, সে ছিদ্র বন্ধ করতে পারলে গ্যাসের দাম আরও কম বাড়ানো যেত। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সচিব মনসুর আহমেদ বলেন, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ছিল ৯ টাকা ৬২ পয়সা, এটি ৪৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এতে বাজেটে টেক্সটাইল শিল্পকে যে সুবিধা দেয়া হয়েছে, শিল্প তার সুফল পাবে না। কারণ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এক কেজি সুতা উৎপাদনে যেখানে বিদ্যুৎ খরচ ৯ টাকা ৩০ পয়সার লাগত, সেখানে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৬০ শতাংশ ব্যয় বাড়বে।

অর্থাৎ এক কেজি সুতার উৎপাদনে বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে প্রায় ৮ টাকা। এমনিতে উদ্যোক্তারা লোকসানে দেশীয় সুতা বিক্রি করছেন, তার ওপর নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে অনেক মিল বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মিলগুলো প্রতি কেজি সুতা ১৬ টাকা লোকসানে বিক্রি করছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোয় লোকসান বেড়ে কেজিপ্রতি ২৪-২৫ টাকায় দাঁড়াবে।