মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ১২:১৭:৩২

Print

ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের প্রশ্নে ভুল, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীদের


ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রকাশিত : শুক্রবার ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ সন্ধ্যা ০৭:৪০:৫০, আপডেট : মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ১২:১৭:৩২,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৬ বার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের অধীনে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশ্নপত্রের পদার্থ বিজ্ঞানের লিখিত অংশের ইংরেজি অনুবাদে আদিবেগ দেওয়া থাকলেও বাংলায় আদিবেগ উল্লেখ করা হয়নি। যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। অনেক শিক্ষার্থী আদিবেগ বিহীন এ প্রশ্নের উত্তর মিলাতে গিয়েও পারেননি। পরে হতাশ হয়ে বাসায় গিয়ে দেখেন ইংরেজি অনুবাদে আদিবেগ দেওয়া ছিল। যদি বাংলায় আদিবেগ থাকত তাহলে উত্তর মিলাতে পারতেন বলে অনেকে মনে শিক্ষার্থীরা।

প্রশ্নের এমন ভুলে ভর্তিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ প্রশ্নটির উত্তর যখন আমি মিলাতে গিয়েছিলাম তখন নানা সমস্যার সস্মুখীন হয়েছি। পরে উত্তর না মিলাতে পেরে আমি এই প্রশ্নের উত্তর বাদ দিয়েছি। তবে প্রশ্নে বাংলায় অনুবাদ থাকায় ইংরেজি অনুবাদ আমি দেখিনি।’ সবার দিক বিবেচনা করে এ প্রশ্নটির নম্বর সবাইকে দিয়ে দেওয়া অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘পরীক্ষার এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নিব। আমাদের কোনো ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তাতে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী বান্ধবই হবে।’

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে মোট ৮৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ‘ক’ ইউনিটে একৎ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৮৮ হাজার ৯৫৫ জন। এবার নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও দিতে হয়েছে ভর্তিচ্ছুদের। মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে ৭৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৫০ মিনিট এবং ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪০ মিনিট সময় পান শিক্ষার্থীরা।

ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান কার্জন হলের একটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কোথাও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাইনি। আশা করি সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। সবাই নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পরীক্ষা দিতে পেরেছে।’

সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জেলা ও উপজেলা সংগঠন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সহায়তা দিয়েছে। তথ্য প্রদানের পাশাপাশি তারা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য চেয়ার ও খাবার পানির ব্যবস্থা করেছে।

এদিকে আগামীকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে মোট ৭২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ‘খ’ ইউনিটে দুই হাজার ৩৭৮টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ১৮জন। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত চ অঙ্কন পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।