সোমবার ২১শে অক্টোবর ২০১৯ সকাল ০৬:৪২:১৯

Print

উপাচার্যের আশ্বাসে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

প্রকাশিত : সোমবার ৮ই জুলাই ২০১৯ বিকাল ০৩:৫৭:২৭, আপডেট : সোমবার ২১শে অক্টোবর ২০১৯ সকাল ০৬:৪২:১৯,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২৫ বার

সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ, ক্রাস প্রোগ্রাম চালুসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ৷ উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাত কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাঁদের আশ্বস্ত করেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নীলক্ষেতে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তাঁদের প্রতিনিধিদল উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এ সময় উপাচার্য তাঁদের আশ্বস্ত করলে তাঁরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো একসঙ্গে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশসহ একই বর্ষের সব বিভাগের ফল একত্রে প্রকাশ, গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশ ও খাতা পুনর্মূল্যায়ন, সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, প্রতিটি বিভাগে মাসে দুই দিন করে অধিভুক্ত সাত কলেজে মোট ১৪ দিন ঢাবি শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়া এবং সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাস প্রোগ্রাম চালু।

বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ৯০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশসহ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি কার্যকর হতে ছয় মাস লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁরা নিজ কলেজে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারবেন।

উপাচার্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আরও জানিয়েছেন, সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। সাত কলেজের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কলেজগুলোর শিক্ষকেরাই প্রণয়ন করবেন, তাঁদের একাডেমিক সনদেও কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। কলেজগুলোর জন্য শিগগিরই একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বকর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা নিজ নিজ কলেজে যোগাযোগ করবেন। যে আশ্বাস তাঁদের দেওয়া হয়েছে, কলেজে যোগাযোগ করে যদি তার প্রতিফলন দেখা না যায়, তাঁরা আবারও আন্দোলনে যাবেন। সেই পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে সরকার। কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ। এরপর থেকে সেশনজট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দফায় আন্দোলনে নামেন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা।