বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৪৪:৪১

Print

জাবিতে হল ছাড়েননি শিক্ষার্থীরা


জাবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত : বুধবার ৬ই নভেম্বর ২০১৯ সকাল ১০:০১:৪২, আপডেট : বুধবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ভোর ০৫:৪৪:৪১,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৩ বার

জাবি বন্ধের নির্দেশ না মেনে রাস্তায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পরও হল ছাড়েননি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে গেলেও বেগম সুফিয়া কামাল হল, প্রীতিলতা হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তালা ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সড়কে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। পরে ছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা তাদের হলে ফিরিয়ে নেয়।

আজ বুধবার সকালে ক্যাম্পাসে সংহতি সমাবেশের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

এদিকে আজ সকালে আন্দোলনকারীদের পক্ষে একদল শিক্ষক সকালে প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে কর্মকর্তাদের বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির নেতারা। এর আগে চলমান পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সোহেল রানাসহ চার শিক্ষক পদত্যাগ করেন।

যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা।

এর আগে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সালামি দেওয়ার অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনের এ হামলায় আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রশাসন নির্দেশনা সংশোধিত করে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে হল ছাড়ার নতুন আদেশ দিয়েছে। প্রশাসনের এই নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়ে দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। রাত ৯টার দিকে ছাত্রীরা হলের গেট ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।