বুধবার ২৪শে জুলাই ২০১৯ সকাল ০৮:১৭:১৭

Print Friendly and PDF

মেক্সিকো সীমান্তে আরেক আয়লানবাবার সঙ্গে ভাসছে শিশুর লাশ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার ২৭শে জুন ২০১৯ সকাল ১০:৫৫:০৯, আপডেট : বুধবার ২৪শে জুলাই ২০১৯ সকাল ০৮:১৭:১৭,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১৯ বার

বাবার সঙ্গে ভাসছে শিশুর লাশ। ছবি-সংগৃহীত


নদীতে ভাসছে দুই শরণার্থীর মৃতদেহ। মৃত বাবার টি-শার্টের ভেতর আটকে আছে ২৩ মাস বয়সী মেয়ে শিশুর লাশ। এ যেন আরেক আয়লান কুর্দির প্রতিচ্ছবি।

২০১৫ সালে গ্রিস উপকূলে এভাবেই ভেসে উঠেছিল সিরীয় শরণার্থী আয়লান (৩)। বিশ্বকে নাড়া দেয়া সেই ছবির মতো এলসালভেদরের শিশু ভ্যালেরিয়ার এই ছবিও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী সংকটের নির্মম বাস্তবতার বিষয়টি তুলে ধরছে।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশের সীমান্তসংলগ্ন রিও গ্রান্ডে নদী থেকে সোমবার ছবিটি তোলা হয়। জায়গাটি মেক্সিকোর মাতামোরোস এবং টেক্সাসের ব্রাউনসভিল এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত, যা আন্তর্জাতিক একটি সেতুর প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে।

স্থানীয় পত্রিকাগুলো বলছে, অস্কার আলবার্তো মার্তিনেজ রমিরেজ (২৬) তার স্ত্রী ভেনেসা অ্যাভালোস ও সন্তানকে নিয়ে রোববার মাতামোরোস পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় প্রার্থনার কথা ছিল তাদের।

এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছুদিন সময় লাগবে ও মেক্সিকো সীমান্তের আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই না পেয়ে হতাশ হয়ে যান রমিরেজ। থাকা-খাওয়ার খরচ জোগানোর সামর্থ্য না থাকায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নদীপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানের পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রথমে সন্তান ও পরে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু নদীর স্রোতে ভেসে যান বাবা-মেয়ে।

রমিরেজের মা জানান, তিনি অনেকবার না করেছিলেন ছেলেকে? কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, ছেলের আর কোনো উপায়ও ছিল না? ছেলে ও নাতনির এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কান্না থামাতে পারছেন না এই বৃদ্ধা? এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওবরাদর।

বহুদিন ধরেই মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ থেকে মানুষজন যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিচ্ছেন। মেক্সিকোতে মাদক কারবারিদের হানাহানি ও সরকারের অভিযান বেড়ে গেলে এই হার বৃদ্ধি পায়।

এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন শরণার্থী না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শরণার্থীদের দীর্ঘ দিনের এই সমস্যাই যেন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ছবি।