মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ১২:৩০:২৪

Print

ঈদের নামাজ শেষ হতেই থমথমে কাশ্মীর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত : সোমবার ১২ই আগস্ট ২০১৯ রাত ০৮:৩৪:২৭, আপডেট : মঙ্গলবার ২২শে অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ১২:৩০:২৪,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯৪ বার

সংগৃহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। এরপর কোথাও কোথাও আবারও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যা নিয়ে উপত্যকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে, জম্মু-কাশ্মীরের কার্ফু-নিষেধাজ্ঞার চেনা ছবিটা হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিল সোমবার ঈদের সকালে। কিন্তু, তা যেন সাময়িক। মসজিদে নামাজ শেষ হতেই থমথমে পরিবেশ ফিরে এল উপত্যকায়। শুনশান হয়ে গেল রাস্তাঘাট। কোথাও কোথাও ফের জারি করা হল নিষেধাজ্ঞা। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এদিন এভাবেই ঈদ উদযাপিত হল জম্মু-কাশ্মীরে।

রবিবারও শ্রীনগরে কার্ফু জারি করা হয়েছিল। ঈদের দিন অবশ্য তা তুলে নেওয়া হয়। তবে, এ দিন বড়ো জমায়েত করে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার পরিবর্তে স্থানীয় মসজিদেই নামাজ পড়েন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি-সহ উপত্যকার বেশ কয়েকজন রাজনীতিককেও স্থানীয় মসজিদে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়। কাশ্মীরের জনজীবন কতটা স্বাভাবিক তা তুলে ধরতে, এদিনের নানা ছবি দেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফেও জানানো হয়েছে, অনন্তনাগ, বদগাম, বারামুলা ও বন্দিপোরের সর্বত্র নির্বিঘ্নে নামাজ শেষ হয়েছে। বারামুলার জামিয়া মসজিদে প্রায় ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল বলেও দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ দিন কার্যত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয় উপত্যকাকে। সকালে রাস্তার কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে, শ্রীনগরে রাস্তার দু’ধারেই নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন ছিলেন। বিক্ষোভের আশঙ্কায় মজুত রাখা হয়েছিল জলকামানও।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবর, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ঈদের দিনে উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর মিলেছে। শ্রীনগরে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে খবরে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। উপত্যকায় বিক্ষোভের খবর স্বীকার করে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাথর ছোড়ার কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। তবে তা বড় আকারের নয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দিয়েছে। ঘটনায় দু’এক জন জখম হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অবশ্য দাবি, উপত্যকায় নির্বিঘ্নেই ঈদ পালিত হয়েছে। টুইটে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের তরফে ইমতিয়াজ হুসেন নামে এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘এ দিন হাজার হাজার মানুষ শান্তিতে ঈদের নামাজ পড়েন।’ সাধারণ মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশের তরফে মিষ্টিও বিলি করা হয়।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এ দিন শ্রীনগরে ব্যাংক ও এটিএমও খোলা ছিল। সব্জি, গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে মোবাইল ভ্যান নামানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যসচিব রোহিত কংশাল বলেছেন, ‘‘জম্মুতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ঈদগাহে নামাজ পড়েন। এ ছাড়া, শ্রীনগর, বারামুলা, রামবাণ, অনন্তনাগ, শোপিয়ান ও অবন্তীপোরা থেকেও সুষ্ঠু ভাবে নামাজ শেষে হয়েছে বলে জানা গেছে।’’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিনের শুরুটা অন্যরকম হলেও নামাজ শেষ হওয়ার পরই অনেক জায়গায় ফের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলেও জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।

শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার শাহিদ চৌধরী বলেছেন, ‘‘এদিন সকালে ঈদের নামাজের পর উপত্যকার বহু জায়গাতেই ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’’