বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৩:২৭:৩৫

Print

চীনের বন্দর বিপাকে ফেলবে ভারতকে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত : শুক্রবার ১৭ই জানুয়ারী ২০২০ সকাল ১১:৩১:০৪, আপডেট : বুধবার ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০৩:২৭:৩৫,
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৭৩ বার

শুক্রবার শুরু হচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মিয়ানমার সফর। আর এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভারত।

প্রায় দু’ দশক পর চীনের কোনও প্রেসিডেন্ট মিয়ানমার সফর করছেন। ৯ বছর আগে শি জিনপিং মিয়ানমার গিয়েছিলেন বটে, তবে তখন তিনি ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই জিনিপিং-এর প্রথম সফর। তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সফরে মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের বন্দর তৈরি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে। আর সে জন্যই ভারতের কাছে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বন্দরই নয়, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড প্ল্যান’ অনুসারে এখান থেকে চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে সরাসির ‘ডেডিকেটেড’ রেল লাইন থাকবে। ফলে চীনের পণ্য অতি দ্রুত চলে আসতে পারবে রাখাইন বন্দরে। রাখাইন হল রোহিঙ্গাদের এলাকা। সামরিক অভিযানের পর এখান থেকেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়েছিলেন।

তবে ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় অন্য। বছর তিনেক আগে ভারত রাখাইনের রাজধানী শহর সিটওয়ে-তে বন্দর তৈরি করেছিল। কালাদান নদী যেখানে সমুদ্রে মিশছে, সেখানেই তৈরি হয়েছে এই বন্দর। অর্থ দিয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রশ্ন হল, চীনের বন্দর তৈরি হলে সিটওয়ে বন্দর কি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে?
প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আমলা ও পরিকল্পনা বিশারদ অমিতাভ রায় জানিয়েছেন, সেই সম্ভাবনা ষোলআনা আছে। কারণ, আমরা যে বন্দর তৈরি করেছিলাম, সেখান থেকে দুহাত দূরে চীনের বন্দর তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি যে বিষয়টা লোকের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে, তা হল, বঙ্গোপসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনের প্রভাব বাড়ার ঘটনা।”

ফলে চীনের বন্দর ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রবীণ সাংবাদিক ও পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ প্রণয় শর্মা মনে করেন, বিষয়টি নির্ভর করছে কে কী ভাবে তা দেখবে তার ওপর। যদি শুধু পণ্য নিয়ে আসার বিষয় থাকে তো তার তাৎপর্য একরকম হবে। যদি সেনা চলে আসার সম্বাবনা বা সমুদ্রে নজরদারির দিক থেকে এটাকে দেখা হয় তো অন্যরকম হবে। প্রণয় জানিয়েছেন,'“ঘটনা হল, চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সুসম্পর্ক রয়েছে। আর পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে চীন এখন বিশ্বে এক নম্বর। ফলে ভারতের পক্ষে তাদের ঠেকানোর কোনও প্রশ্ন নেই৷ তবে ভারতের কাছে স্বস্তির বিষয় হল, ১৯৯৪ সাল থেকে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে মিয়ানমার। বলা যেতে পারে, মিয়ানমারের কাছে ভারত হল দ্বিতীয় উইন্ডো।। ভারতও তার প্রতি নরম মনোভাব নিয়ে চলে।”

এই পরিস্থিতিতে জিনপিং মিয়ানমার সফর করছেন। দেখা করবেন অং সান সু চি ও সেনা প্রধানের সঙ্গে। দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। তার দিকে তাকিয়ে ভারতসহ গোটা বিশ্ব। সূত্র: ডয়চে ভেলে