সোমবার, ৩০শে মার্চ ২০২৬, ১৬ই চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
সারাদেশের মতো বরিশাল বিভাগেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ- এই তিন মাসে বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় জেলার মধ্যে ভোলা জেলায় টিকার সংকট থাকলেও বাকি পাঁচ জেলায় হামের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও চাপের মধ্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল নগরীর হরিণাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা রাশিদা বেগম তার দুই বছরের শিশুকে নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তার শিশুকে হামে আক্রান্ত আরেক শিশুর পাশে রাখা হয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হাম আক্রান্ত এক শিশুর মা জানান, হাসপাতালে বেড সংকট তীব্র। শুরুতে বেড না পেয়ে পরে নানা চেষ্টা করে ব্যবস্থা করতে হয়েছে। পৃথক ইউনিট না থাকায় রোগীদের কষ্ট আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন। এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা ৪১টি হলেও বাস্তবে প্রায় ৪০০ শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, বিভাগে এ পর্যন্ত ২০৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো টিকা প্রদান, সংক্রমিতদের পৃথক রাখা এবং হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)