নোয়াখালীতে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে জখম
প্রকাশিত:
২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৩৪
আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:১৫

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন— গাংচিল বাজারের রাজ গার্মেন্টসের মালিক শাহরাজ উদ্দিন (৩১), হাজী মুস্তাফিজুর রহমান (৮৩), মো. বেলায়েত হোসেন (৬৩), ওমর ফারুক (৩৮), শাহাব উদ্দিন (৬৩) ও ইমাম হোসেন খান (৫৬)।
স্থানীয়রা জানান, ব্যবসা পরিচালনার জন্য গাংচিল বাজারের রাজ গার্মেন্টসের মালিক শাহরাজ উদ্দিনের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীব খান। টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সে হুমকি দেন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অস্ত্রসহ রাজিব ও তার সহযোগীরা রাজ গার্মেন্টস নামের কাপড়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এতে একই পরিবারের ছয়জন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
শাহরাজ উদ্দিনের ভাই রবিউল হোসেন বলেন, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ দিয়ে ছয়জনকে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা। দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। শেষে যখন বললো তাদের কোপে আমার দাদা হাজী মুস্তাফিজুর রহমান মারা গেছে তারা তখন ভয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
রাজ গার্মেন্টসের মালিক শাহরাজ উদ্দিন বলেন, আমার কাছ থেকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব। আমি না দেওয়াও বিভিন্ন সময় তারা হুমকি দিচ্ছিল। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেবে না। গতকাল রাজিব সন্ত্রাসী নিয়ে দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাশাপাশি কুপিয়ে আমার দাদা, চাচা, ভাইসহ ৬ জনকে জখম করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হক বলেন, হাতাহাতির খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আহতরা পড়ে আছে। পরে পুলিশকে জানাই এবং অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ করি। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এভাবে জখম করা মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজীব খানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি ফলে কোনো বক্তব্য যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তুচ্ছ ঘটনায় এমনটা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পর্কিত বিষয়:
নোয়াখালী
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: