ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট ২০২০, ২১শে শ্রাবণ ১৪২৭


করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের বেশ ক্ষতি হয়েছে : টিপু মুনশি


প্রকাশিত:
২৩ জুলাই ২০২০ ১৫:৪৪

আপডেট:
২৪ জুলাই ২০২০ ১৭:২১

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি

কোভিড-১৯-এর কারণে বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাংলাদেশও তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

আজ বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম ও রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইনটিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) যৌথ আয়োজনে জুম প্ল্যাটফর্মে ‘কোভিড-১৯ অ্যান্ড বাংলাদেশ ইকোনমি’—শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন টিপু মুনশি।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। কোভিড-১৯ শেষ হওয়ার পর আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব, আমরা সেটা পারব। সামনে আমাদের জন্য শুভদিন অপেক্ষা করছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্ববাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এসেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবর্তিত এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে অনেক কিছু হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। জাপান চীন থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। নিজেরে সক্ষমতা ও যোগ্যতা দিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে জায়গা করে নেওয়ার সময় এসেছে। সময় নষ্ট না করে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে।

টিপু মুনশি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ টাস্কফোর্স কাজ করে যাচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম ভুটানের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বেশকিছু দেশের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করা হবে। ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা অনেক এগিয়ে গেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রপ্তানি বাজারে শুধু তৈরি পোশাকের উপর নির্ভর করে থাকলে আমাদের চলবে না। দেশের আইটি, ঔষধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জনিয়ারিং, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে, সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস ইসিফোরজে প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) ১০ একর জমির উপর এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কে পাঁচ একর জমির উপর দুটি টেকনোলজি সেন্টার গড়ে তোলার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ টেকনোলজি সেন্টারে আধুনিক ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আশা করা যায়, এ বছরের শেষে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ আসতে পারে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ সরকার সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক। বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার বিন্ডের চেয়ারম্যান আবুল কাশের খান এবং ডিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট সামস মাহমুদ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবু ইউসুফ।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top