ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট ২০২০, ২১শে শ্রাবণ ১৪২৭


ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম


প্রকাশিত:
২৮ জুলাই ২০২০ ১০:২৬

আপডেট:
৪ আগস্ট ২০২০ ১০:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

সোনার দাম কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তা দেখে বিশ্লেষকেরা বলে আসছিলেন, এ বছরেই সোনার আউন্সপ্রতি দাম বেড়ে ২ হাজার ডলারে উঠবে। কিন্তু চলতি জুলাই মাসে এসে পণ্যটির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। দুই–তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া হয়, চলতি সপ্তাহে সোনার দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই সোনার দাম বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৯৪৪ দশমিক ৭১ পয়েন্টে উঠে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়।

গতকাল সোমবার সকালে কেনাবেচা শুরু হতে না হতেই সোনার আউন্সপ্রতি দাম একলাফে ১ হাজার ৯৩১ দশমিক ১১ পয়েন্টে ওঠে। এতেই ১০ পয়েন্টের মতো পেছনে পড়ে যায় আগের রেকর্ডটি, যেটি হয়েছিল ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৯২৩ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছিল। এতে চলতি বছরে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরে সোনার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে রুপার দামেও গতকাল রেকর্ড হয়েছে। গতকাল প্রতি আউন্স রুপার দাম ২৪ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছে। এর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর প্রতি আউন্স রুপার দাম ২৩ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছিল, যে রেকর্ড ছয় বছর পর গতকাল ভাঙল। চলতি বছরে এ পর্যন্ত পণ্যটির দাম ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। অচিরেই রুপার দাম ৩০ ডলারে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা–রুপার দাম নির্ধারণ হয় আউন্স হিসাবে। এক আউন্স সোনা ৩১ দশমিক ১০৩ গ্রামের সমান।

বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৯৪৫ ডলারে ও রুপার দাম ২৪ ডলারে ওঠে নতুন রেকর্ড গড়েছে করোনাভাইরাসের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার দুর্বল হয়ে পড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগখ্যাত সোনা কেনায় ঝুঁকছেন। এ ছাড়া কোভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজও সোনার মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এভাবে চাহিদা যত বাড়ছে, সোনা-রুপার দামও তত বাড়ছে।

কিন্তু কোথায় গিয়ে থামবে সোনার দাম, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই, বরং তাঁরা সবাই কয়েক দিন ধরেই এক সুরে বলছিলেন, শিগগিরই সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ডলারে উঠবে।

কিন্তু কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার খনি ও জ্বালানি পণ্য বিশেষজ্ঞ বিবেক ধর সোনার দামে গতকাল আরও ৫০০ ডলার যোগ করে দিলেন। বললেন, ‘প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার শূন্য শতাংশে বা এর চেয়ে নিচে নামিয়ে আনলে এর ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

চলমান বৈশ্বিক অতিমারি কোভিড–১৯ বা করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফার প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার নতুন উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম কমে যাওয়ার কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণকেই ‘সেফ হ্যাভেন’ বা বিনিয়োগের নিরাপদ স্বর্গ বলে মনে করছেন। ফলে দামি ধাতু পণ্যটির চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।

আমরা মনে করি, বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ডলারে উঠবে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এরপর বাস্তবে কোথায় গিয়ে ঠেকে সোনার দাম। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমে শূন্য শতাংশের নিচে নেমে গেলে সোনার আউন্সপ্রতি দাম আড়াই হাজার ডলারে উঠবে।

জে রটবার্ট অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জোশুয়া রটবার্ট মনে করেন, সোনার দাম এ বছরই দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন আতঙ্কে আছেন। তাঁরা ভীতসন্ত্রস্ত। তাই তাঁরা সোনার বাজারে ভিড় করছেন।

জোশুয়া রটবার্ট বলেন, ‘আর্থিক ও রাজস্বনীতি শিথিলকরণ, বৈশ্বিক মন্দা, বেকারত্ব এবং সরকারগুলো পরিস্থিতি সামলাতে না পারার কারণে সোনার আউন্সপ্রতি দাম ২ হাজার ডলারে উঠে গেছে।’

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির সংকলিত উপাত্ত অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে ২১৫টি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চলছে। এতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি। আর মারা গেছেন ৬ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টন সোনা উত্তোলিত হয়। কিন্তু নতুন খনি আবিষ্কার করা না হলে আগামী ২০ বছরের মধ্যেই খনিতে সোনার মজুত শেষ হয়ে যাবে। কারণ, ইতিমধ্যেই মজুতের ৮০ শতাংশ উত্তোলন করা হয়ে গেছে।

সূত্র- এএফপি, সিএনবিসি, ট্রেডিংইকোনমিকস, গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি।

 

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top