১৯০ কোটি টাকায় পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে ৪১৮ গাড়ি
প্রকাশিত:
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৪৪
আপডেট:
১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৫১

পাঁচটি ২৭০০ সিসি জিপসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ৪১৮টি নতুন গাড়ি পাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। এসব গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আন্দোলন এবং উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে পুলিশের ৪৫৫টি যানবাহন ভস্মীভূত ও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে মােট ৩৮৫ কোটি টাকায় ৭১৪টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৪১৮টি গাড়ি কেনার বিষয়ে সম্প্রতি সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কত সিসির কোন গাড়ি কত টাকার মধ্যে কিনতে হবে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্রে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই কেনা হবে স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে। কিছু যানবাহন কিনতে আন্তর্জাতিক দরপত্রেরও প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে অনূর্ধ্ব ২৭০০ সিসির পাঁচটি জিপ কেনার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দরে এসব জিপ কিনতে ব্যয় হবে ৮ কোটি ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
একই পদ্ধতিতে অনূর্ধ্ব ২০০০ সিসির ১৫টি জিপ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতিটি ৬৫ লাখ টাকা দরে এসব গাড়ি কিনতে ব্যয় করা যাবে ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে অনূর্ধ্ব ২৫০০ সিসির ২০০টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব গাড়ি কিনতে ব্যয় করা যাবে ১১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আটটি মাইক্রোবাস ও ১৬টি ট্রাক কেনা হবে। প্রতিটি মাইক্রোবাসে ব্যয় করা যাবে ৫২ লাখ টাকা। তিন টনের প্রতিটি ট্রাকে ব্যয় হবে ৩১ লাখ ৭৫ হাজর টাকা এবং পাঁচ টনের প্রতিটি ট্রাকে ব্যয় হবে ৩৯ লাখ টাকা।
চারটি বড় নন-এসি বাসও কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। পাঁচটি প্রিজনার্স ভ্যানের প্রতিটির দাম ৫৭ লাখ টাকা। আরও কেনা হবে ১৫০ সিসির পুলিশ ভার্সন মোটরসাইকেল ১৫২টি। প্রতিটি আড়াই লাখ টাকা দরে এসব বাইক কিনতে খরচ হবে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৭৫ লাখ টাকায় একটি বড় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডগ ভ্যান কেনার বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১০ টনের রেকার আটটি এবং চারটি এপিসি কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি রেকার ক্রয়ে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা ব্যয় করা যাবে। আর প্রতিটি এপিসি কিনতে ব্যয় করা যাবে ৬ কোটি টাকা। প্রতিটি যানবাহন ক্রয়ে যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যেই রেজিস্ট্রেশন ফি, ভ্যাট ও ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলছেন, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপের আওতায় নতুন গাড়ি কিনতে বিধি-নিষেধ আরোপ করে গত ৪ জুলাই পরিপত্র জারি করে অর্থ বিভাগ। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশের ভস্মীভূত বা মেরামত অযোগ্য যানবাহন প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে ওই পরিপত্র শিথিল করে বিশেষ বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন যানবাহন ক্রয়ে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এর আগে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যানবাহন ক্রয়ের চাহিদা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল পুলিশের প্রধান কার্যালয়, যার একটি অনুলিপি অর্থ বিভাগেও পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত আন্দোলন ও তৎপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের থানা, জেলা ও অন্যান্য ইউনিটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশের ৪৫৫টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ভস্মীভূত বা মেরামত অযোগ্য হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে অসংখ্য যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। জনগণের জানমাল ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য থানা ও ফাঁড়িগুলোর কার্যক্রম চালু হলেও যানবাহনের অভাবে প্রকৃত নাগরিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সম্পর্কিত বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: