রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ই ফাল্গুন ১৪৩২


দুর্নীতি করবো না, কাউকে করতেও দেব না : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৭

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। এমনকি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেওয়া হবে না।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যময় দিন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং বাঙালির মৌলিক অধিকার আদায়ের প্রতীক। ভাষা মানুষের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও মৌলিক অধিকার। একইসঙ্গে নিজের পরিবার, অনুভূতি ও চেতনার সঙ্গে ভাষার সম্পর্ক গভীর। সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঙালিকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ত্যাগ ও সংগ্রাম ছাড়া কোনো জাতি অধিকার অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়েও অধিকার আদায়ে আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পেয়েছেন এটাই বড় প্রাপ্তি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা হলো রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে উঁচু ভবন দাঁড় করে লাভ নেই। তাই শিক্ষার অবকাঠামো মজবুত করাই সবার দায়িত্ব। শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। সেটি হচ্ছে— ‘কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি’। পাঠ্যক্রম ভালো হতে হবে, শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে এবং সারা দেশে শিক্ষার মানে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। বর্তমানে দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি শিক্ষা ও বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাধারা রয়েছে। এসব ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় জরুরি।

ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান ভাষার মধ্যেই গঠিত ও প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা ও গণিতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভাষা ও গণিতে দুর্বলতা থাকলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানান তিনি। তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ধাপে ধাপে চালু করা হবে। তবে ইংরেজি শেখানোর আগে বাংলা ভাষায় দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক শিক্ষার্থী বাংলাতেই সঠিকভাবে শেখে না। এ বাস্তবতা পরিবর্তনে জোর দিতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা নিজেরা দুর্নীতিতে জড়াবো না এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি থাকবো। দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ শুধু আন্দোলনে নয়, কর্মক্ষেত্রেও দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়