ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট ২০২০, ২১শে শ্রাবণ ১৪২৭


তাদের মুখে ব্রেকআপের গল্প


প্রকাশিত:
২৬ জুলাই ২০২০ ১০:৩১

আপডেট:
৪ আগস্ট ২০২০ ১২:১০

ছবি: সংগৃহীত

সোহিনী সরকার
কেউ ব্রেকআপের পর পুরনো প্রেমিকের বাবা-মায়ের খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ বা আবার প্রেমিকার মুখ দেখবে না বলে পণ করেও প্রতিদিন টিভির সামনে বসছেন ‘আবেগজড়ানো’ সেই মুখটা একবার দেখার জন্য! মৈনাক ভৌমিকের ওয়েব সিরিজ ‘ব্রেকআপ স্টোরি’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টলিউড তারকারা জানিয়েছেন নিজেদের ব্রেকআপের গল্প...

চান্দ্রেয়ী ঘোষ
প্রথম ব্রেকআপে মনে হয়েছিল, আমার জীবনে সব শেষ! জীবনের সব গেল। আমি নিজেই ব্রেকআপ করি। পরে বুঝেছি, ভালো হয়েছে। ব্রেকআপ কষ্টের ছিল, কষ্টের থাকবে। এখন সেটার সঙ্গে বোঝার জন্য অনেক মাধ্যম আছে। আমার ব্রেকআপ হয়েছে, আবার এমন কিছু মানুষের সঙ্গে বন্ধুতা হয়েছে।

সোহিনী সরকার
বয়সে খুব ছোট। তখন ব্রেকআপ শব্দটাই জানতাম না। পরিস্থিতির চাপে সরে আসি। পরবর্তীকালে আবার যখন ব্রেকআপ হয়, সেই মুহূর্তে মনে হয়েছে উল্টোদিকের দোষ। এখন পরিণত সময়ে মনে হয়, দোষটা আপেক্ষিক; মানিয়ে নিয়েও থাকা যেত। ২০০৮ সালে যার সঙ্গে ব্রেকআপ হয়, ২০১৮-তে অজানা নম্বর থেকে ফোন করে সে বলে; বিয়ে করছে। আমি অবাক হই। ওর বাচ্চা হয়, সে খবরও দেয়। আমি আবার এই বিষয়টা আমার এখন যে বন্ধু রণজয়, তাকে বলি। একটা সম্পর্কের শুরুতে কিন্তু এখন প্রাক্তনদের নিয়ে অনেক কথা হয়। শুরুটাই হয় ওই জায়গা থেকে। আর এখন সবার সঙ্গে সবার এত যোগাযোগ।

রণজয়
যা প্রথম প্রেম ভেবেছিলাম, তা এখন বুঝি সে রকম প্রেম ছিল না। বয়সে ১২ বছরের বড় শিক্ষিকা। ব্রেকআপ হয়। ওর বিয়ে হয়ে যায়। কেউ আর যোগাযোগ রাখিনি। আমরা বাঙালিরা একটা কোথাও গিয়ে মধ্যবিত্ত চিন্তার বৃত্তে ঘুরি। আমার আর সোহিনীর বন্ধুত্ব এত গাঢ়, দুজন দুজনের অনেক প্রেম হতে দেখেছি। শিক্ষিত লোক হলে বুঝতে পারে, এই ব্রেকআপটা হতেই পারে; যা দুজনের সমস্যা থেকে হয়েছে। সোহিনী আর আমি সেভাবেই আলোচনা করি। আমাদের প্রাক্তনের বিষয় আলোচনার মধ্যে কমফোর্ট জোন তৈরি হয়ে আছে।

আরিয়ান ভৌমিক
লংটার্ম রিলেশনশিপে আমার ব্রেকআপ হয়েছে। যদিও প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে আমি একটা স্বাভাবিক যোগাযোগ রাখি। একেবারে কথা বন্ধ রেখে দেব, এমন নয়। তবে কাজ আমার কাছে আসল। কাজের সঙ্গে ব্রেকআপ না হলেই হলো।

অলিভিয়া সরকার
২০১২ সালে আমার ব্রেকআপ হয়। দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল। বেরোতে বেশ কষ্ট হয়েছে। আমার সাবেক প্রেমিক বলেছিল, কোনোদিন যেন আমাকে মুখের সামনে না দেখে। অথচ তার পরের বছর থেকেই টেলিভিশনে আমার জার্নি শুরু। সারাক্ষণ আমাকেই দেখতে হয়েছে। এই ভাঙা থেকে শিখেছি অনেক। যেমন; নিজেকে ভালোবাসা দরকার। আবেগে পড়ে অন্যের ভালো শুধু ভাবা উচিত নয়। তবে যে মুখ দেখতে চায় না বলেছিল, সে এখন প্রতি জন্মদিনে আমাকে উইশ করে। যদিও আমার দিক থেকে কোনো উত্তর যায় না।

সৌরসেনী মৈত্র
প্রথম ব্রেকআপে প্রচুর কান্নাকাটি করেছি। ফোন ব্লক করেছি, আবার খুলে দিয়েছি। শাহরুখ খানের ছবি দেখে কেঁদেছি। তবে ব্রেকআপ হলে ভালোবাসার মানুষকে আমি বন্ধু হিসেবে ভাবতে পারি না।

অনিন্দিতা বোস
আমি একটু সিরিয়াস টাইপের। তিন মাসের ডেট করছি। সম্পর্ক ভাঙার পর একজন শাহরুখ খানের ‘ডর’-এর মতো তাড়া করেছিল। এখন অবশ্য আমাদের সেট গোল আছে- যেখানে প্রেম, সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে।

সৌরভ চক্রবর্তী
আমি তো চলচ্চিত্রের চিরঞ্জিতের মতো। প্রচুর ব্রেকআপ হয়েছে। মৈনাকের ওয়েব সিরিজের সঞ্জয়ের মতো। তখন আমি ক্লাস ইলেভেনের ছাত্র। মেয়েটি পড়ে নাইনে। সন্ধ্যায় পর্ণশ্রীর খালের পাড় থেকে আমি দৌড়াচ্ছি আর সেই মেয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে ছুটেছে। একটা সময় ভাবতাম; যার সঙ্গে ডেট করেছি, তাকেই বিয়ে করব। সন্তানের নাম অবধি ঠিক করে রাখতাম। মেয়ের মায়ের হাতে চড় অবধি খেয়েছি। তবে অনিন্দিতার সঙ্গে এখন প্রেম বেড়ে গিয়েছে। আমরা দুজনে সম্পর্কে গ্রো করছি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top