শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৬, ২১শে চৈত্র ১৪৩২


‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমায় কী আছে?

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত:৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৭

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অ্যান্ডি উইয়ারের বেস্টসেলার সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমা ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’। ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলারের নির্মাণে সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পায় গত ২০ মার্চ। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সেও দেখা যাচ্ছে এই সায়েন্স ফিকশন সিনেমা। গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে তা দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে অনেক দর্শকদের মাঝে উঠেছে কৌতূহল- কী আছে এতে।

মূলত, মানবসভ্যতাকে বাঁচানোর এক মরিয়া মিশনের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। ইতোমধ্যে বিবিসি, গার্ডিয়ানের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে চমৎকার সব রিভিউ লিখেছেন সিনেবোদ্ধারা। ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দৈর্ঘের এই সিনেমাটিতে ছিল মহাকাশে এক বিশেষ মিশনের কাহিনি।

সিনেমাটি দর্শকদের মন কেড়েছে বেশ। তাদের দাবি, ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ অস্কার প্রাপ্তির দাবি রাখে। অবশ্য এই সিনেমাটি দেখে অনেকে ক্রিস্টোফার নোলানের সায়েন ফিকশন ‘ইন্টারস্টেলার’-এর কারিগরি বুননের সঙ্গে মিল পেয়েছে। ভিজ্যুয়াল, গ্রাফিক্স, ভিএফএক্স এর সঙ্গে বিশেষত মিল পেয়েছেন তারা। সায়েন্স ফিকশন সিনেমাগুলোতে ঠিক যেমন থিম ধরে রাখে হলিউড, সেই গতানুগতিক থিমই ছিল এই সিনেমায়।

সাধারণত সায়েন্স ফিকশন সিনেমাগুলোতে মানুষের বিজ্ঞান বিষয়ক কৌতূহলকে ভাঙার চেষ্টা করা হয়। সেক্ষেত্রে গল্পে মহাকাশ কিংবা ইউনিভার্স থাকলে বহু গাণিতিক হিসাব, পদার্থবিদ্যা, ভর-বেগ এর বিষয়গুলোকে অনেকটা সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়। ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমা যেন সেক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার জয়গান গেয়েছে।

সিনেমার গল্পে দেখা যায়, ভিনগ্রহের একদল অণুজীব সূর্যের আলো নিভিয়ে দিচ্ছে, যার ফলে পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মানবসভ্যতাকে রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে একটি মিশন হাতে নেয় নাসা। সেই ভিনগ্রহের অনুজীবকে পরিচয় করানো হয় ‘অ্যাস্ট্রোফেজ’ নামে। যার কাজ, সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রদের তেজ শুষে নেওয়া। ফলে, সূর্যের কাছে থাকা পৃথিবী পড়ে হুমকির মুখে। দ্রুত শীতল হয়ে যায়, চলে আসে বরফ যুগে। আর এই মহাবিপদ থেকে মানবসভ্যতাকে বাঁচাতে ড. রিল্যান্ড গ্রেস নামের এক জীববিজ্ঞানীকে মহাকাশে পাঠানো হয়। একটি বিশাল মহাকাশযানে দীর্ঘ সময় তাকে ভ্রমণ করানো হয়। যখন গ্রেস কোমা থেকে ওঠেন, তখন ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন কেন তাকে এই মিশনে পাঠানো হয়েছে। ড. রিল্যান্ড গ্রেস নামের সেই জীববিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রায়ান গসলিং। সিনেমার দৃশ্যে তাকে দেখা গেছে লম্বা চুল ও দাঁড়িতেও; কারণ, তার চরিত্র গ্রেস সেই মহাকাশ যানে দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন।

সিনেমায় ড. গ্রেসের সঙ্গে ‘রকি’ নামের এক ভিনগ্রহের প্রাণীর সাক্ষাৎ হয়। সেখানে গড়ে ওঠে তাদের চমৎকার রসায়ন। মাকড়সার মতো দেখতে এবং পাথুরে শরীরের সেই প্রাণী কম্পিউটারের মাধ্যমে সব শব্দের অনুবাদ করে। মূলত দুই ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দার এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যায় সিনেমার কাহিনী।

চিত্র সমালোচকদের মতে, এই সিনেমায় ল্যাবরেটরির গবেষণা এবং মহাকাশের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানকে দুই পরিচালক অত্যন্ত সহজবোধ্য ও রোমাঞ্চকর করে তুলেছেন। ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের এই দীর্ঘ ভ্রমণে দর্শক এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্ত হন নি বলেও দাবি সমালোচকদের। ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা এবং যোগাযোগের মাধ্যমে কীভাবে পৃথিবী রক্ষা করা সম্ভব, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। সব মিলিয়ে সিনেমাটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা সায়েন্স ফিকশন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়