ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ই আশ্বিন ১৪২৭


ব্যাংক কর্মকর্তা দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশিত:
৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:২১

আপডেট:
৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:৩৬

মো. মিজানুর রহমান ও মো. জাকির হোসেন সবুজ। ছবি- সময়নিউজ ডট নেট।

রাষ্ট্রায়ত্ব রুপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী আপন দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গৃহনির্মাণ ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের কতিপয় অসাধু সিবিএ নেতার সহযোগিতায় ধাপে ধাপে এ অর্থ আত্মসাত করলেও বহাল তবিয়তে আছেন তারা। বিষয়টি জানাজানির পর গত বছর ৯ জানুয়ারি মো. নুর হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তি ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, রুপালী ব্যাংক লিমিটেড কৃষি ও পল্লী ঋণ বিভাগ প্রধান কার্যালয় ঢাকা’র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার মো. মিজানুর রহমান (রেজি নং-৮৬১১) এবং রুপালী ব্যাংক লিমিটেড বাজার রোড শাখা বরিশালের কেয়ারটেকার (পিওন) ও রুপালী ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন সবুজ (রেজি নং-৮৫৬২) তারা আপন দুই ভাই। উভয়ের পিতা মৃত: আব্দুল জলিল জমাদ্দার। তারা ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কয়েক ধাপে দলিল নং- ২৮৫২ ও ২৮৫৩, তাং- ০৮/০৬/১৯৯৩, জে এল নং- ৫১ মৌজার সিএস ও এসএ খতিয়ান নং- ৯১৬, আরএস ও এসএ হাল দাগ নং- ২১১২ অর্থাৎ দুই দাগে (৩+৩) মোট ৬ শতাংশ জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে কর্মচারী গৃহনির্মাণ ঋণ বাবদ (জাকির হোসেন ২৯ লক্ষ ৯৫ হাজার এবং মিজানুর রহমান ৭৭ লক্ষ ৯০ হাজার) সর্বমোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। উল্লেখিত জমি ব্যাংকের নিকট অদ্যাবধি বন্ধকী সম্পত্তি হিসেবেই আছে।

বরিশালের সাব রেজিস্টারের রেকর্ড থেকে জানা গেছে, মো. জাকির হোসেন সবুজ ও মো. মিজানুর রহমান ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ দূরের কথা, উল্টো ২০০৪ সালের ৬ মার্চ দলিল নং- ১৫৪২/০৪ এর মাধ্যমে উল্লেখিত বন্ধকী সম্পত্তি মো. আব্দুল খালেক খন্দকার, পিতা মৃত: সৈয়দ আলী খন্দকার, সাং- ধুলিয়া, থানা- বাউফল, জেলা পটুয়াখালীর নিকট সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে আব্দুল খালেক খন্দকার খরিদকৃত ৬ শতাংশ জমি নিজের নামে নামজারি (খতিয়ান নং- ৬০৮১) করে নিয়েছেন।

সূত্র মতে, ব্যাংকের নিকট সম্পত্তি বন্ধক থাকা অবস্থায় বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করা প্রতারণার সামিল এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ঘটনা জানাজানি হলে রুপালী ব্যাংক লিমিটেড বিভাগীয় কার্যালয় বরিশালের মহাব্যবস্থাপক গতবছর ২০ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি গত বছরের ১৪ মার্চ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও অজ্ঞাত কারনে তা ধামাচাপা হয়ে আছে। অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনাকেও উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তারা ম্যানেজ করেছেন বলেও শোনা যায়। ফলে গৃহনির্মাণ ঋণের প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেও বহাল তবিয়তে দিনযাপন করছেন মো. জাকির হোসেন সবুজ এবং তার আপন বড় ভাই মিজানুর রহমান।

অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে রুপালী ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার মো. মিজানুর রহমান এর মুঠোফোনে (০১৭১২-৭৭০০০৬) কয়েকদফা কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রুপালী ব্যাংক লিমিটেড এর উপ মহাব্যবস্থাপক (ভিজিলেন্স ও ইন্টিলিজেন্স বিভাগ) সিকদার ফারুক এ আযমের মুঠোফোনে (০১৭১২-১৭২৮৮২) জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছুদিন হলো এ ডিপার্টমেন্টে আসছি। বিষয়টি দেখবো। ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রুপালী ব্যাংকের এর এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের সিবিএ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র এবং স্থানীয় কার্যালয় ও শৃঙ্খলা বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় দীর্ঘদিন যাবত ব্যাংকে নানা ধরণের দুর্নীতি ও জাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ সব কিছু জেনে নীরব ভুমিকা পালন করে চলেছে। তিনি বলেন, রুপালী ব্যাংক সিবিএ’র সহযোগীতায় বছরের পর বছর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারির অসততা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে ব্যাংকের হৃদপিন্ডটি আজ ক্ষত-বিক্ষত। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ঢিলেমীর কারণে ব্যাংকে এ ধরণের অর্থ আত্মসাত ও জালিয়াতির ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। ব্যাংকে বিদ্যমান বিভাগীয় ও প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও পরিদর্শণ বিভাগের এ নিয়ে কোনই মাথা ব্যথা নেই।

এ বিষয়ে রুপালী ব্যাংক লিমিটেড এর উপ মহাব্যবস্থাপক (শৃঙ্খলা বিভাগ) অজিত কুমার সরকারের মুঠোফোনে (০১৮১৯-০৮৪৯১৬) জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। ফাইলটি দেখতে হবে। সত্যিই যদি তেমন কিছু ঘটে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top