ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৬ই মে ২০২১, ২২শে বৈশাখ ১৪২৮


গ্রেনেড মামলা আসামির আত্মীয় আওয়ামী লীগ নেতা!


প্রকাশিত:
১৩ এপ্রিল ২০২১ ১৭:৩৮

আপডেট:
৬ মে ২০২১ ০৫:৫৭

সফিউদ্দিন মোল্লা পনু। ছবি-সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তর সিটির ৪৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে জোর লবিং চালিয়েছেন সফিউদ্দিন মোল্লা পনু। কেন্দ্র থেকে শুরু করে নগর নেতাদের কাছে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন তিনি। ইতোপূর্বে দক্ষিণখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, সফিউদ্দিন মোল্লা পনু একজন হাইব্রীড আওয়ামী লীগার। তার আপন বোন জামাই ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপকমিশনার ওবায়দুর রহমান খান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত আসামী। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আছেন।

এদিকে সফিউদ্দিন মোল্লা পনুর পদ চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ২১ আগস্ট যারা গ্রেনেড মেরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছে, ২৪টি তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তাদেরই নিকটাত্মীয় হয়ে একজন হাইব্রীড আওয়ামী লীগার সফিউদ্দিন মোল্লা পনু কীভাবে দলীয় পদ পদবী দাবি করে?

জানা গেছে, দক্ষিণখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ৩ বছর আগে। অথচ কমিটি এখনো বিলুপ্ত হয়নি। অপরদিকে ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে সিটি করপোরেশনে রুপান্তরিত হওয়ায় সেখানে নতুন কোন কমিটিও হয়নি। যে কারনে এখনও দক্ষিণখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করছেন সফিউদ্দিন মোল্লা পনু।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে মনোনয়ন পান সফিউদ্দিন মোল্লা পনু। ওইসময় আমরা তাকে প্রত্যাখান করি। ফলশ্রুতিতে তিনি তখন কাউন্সিলর হতে পারেননি। ওই নেতা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা হয়তো জানতেন না যে, পনু গ্রেনেড হামলার দণ্ডিত আসামির আপন বোন জামাই এবং একজন হাইব্রীড আওয়ামী লীগার। তাহলে হয়তো এমনটা হতো না। আমরা চাই, পনু যাতে আর কোনোদিন আওয়ামী লীগ থেকে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা না পায়। তিনি বলেন, ‘যারা প্রকৃত অর্থেই বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসে এবং শেখ হাসিনার নৌকাকে ভালবাসে তারাই যেন আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, “সফিউদ্দিন মোল্লা পনুর বিষয়টি যাচাই বাছাই করা হবে। কমিটিতে যে কেউ পদ চাইতেই পারে। তবে আমরা ত্যাগী, পরীক্ষত, সৎ, যোগ্য এবং দুর্দিনে যারা দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করেছেন তাদেরই নির্বাচিত করবো। তবে কোনোভাবেই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাউকে ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটির কোথায়ও রাখা হবে না বলেও জানান তিনি।”

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সফিউদ্দিন মোল্লা পনু বলেন, “ওবায়দুর রহমান খান আমার আত্মীয় ঠিক আছে। তবে তিনি অন্যায় করলে অবশ্যই তার সাজা তিনি পাবেন। এখানে আমার দোষটা কোথায়? তাছাড়া গ্রেনেড হামলার সঙ্গে আমারতো কোনপ্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, আওয়ামী লীগকে মনে-প্রাণে লালন করি। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে বলেও জানান তিনি।”

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে দলের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। সফিউদ্দিন মোল্লা পনুর বোন জামাই পুলিশের সাবেক উপকমিশনার ওবায়দুর রহমান খান ওই মামলার একজন দণ্ডিত আসামি এবং বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top