ঢাকা বুধবার, ২৮শে জুলাই ২০২১, ১৩ই শ্রাবণ ১৪২৮


ঔষধ ছাড়া প্রেসারের চিকিৎসা


প্রকাশিত:
৯ আগস্ট ২০২০ ১৩:৫৬

আপডেট:
২৮ জুলাই ২০২১ ১৩:৪৯

ছবি- সংগৃহীত

আমাদের দেশের প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রেসার ১৪০/৯০ এর বেশি হলে প্রেসারের ঔষধ দেয়া হয়। কিন্তু প্রাথমিকভাবে ঔষধ ছাড়াই প্রেসারের চিকিৎসা করা সম্ভব।

আমেরিকা, ইউকে, ইউরোপের হাইপারটেনশন ম্যানেজমেন্টের সবগুলো গাইডলাইনে বলা হয়েছে, যারা হাই প্রেসারের রোগী তাদের প্রেসার ১৬০/১০০ এর নিচে থাকলে ঔষধ ছাড়াই চিকিৎসা করতে হবে। তবে যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হার্টের রোগ, রক্তনালীর রোগ রয়েছে বা যারা হাই রিস্ক রোগী তাদের অবশ্যই প্রেসারের ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। আর প্রেসার ১৬০/১০০ এর বেশি হলে শুরুতেই আপনাকে ঔষধ খেতে হবে এবং সাথে অন্য কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে।

অর্থাৎ আপনার প্রেসার যাই থাকুক না কেন, আপনি যদি হাই প্রেসারের রোগী হন তাহলে আপনার প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে খাবার-দাবার এবং অন্যান্য কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। এতে প্রেসার কন্ট্রোল না হলে ঔষধ খেতে হবে। মানে দাড়াল হাই প্রেসারের প্রথম চিকিৎসা খাবার দাবার নিয়ম কানুন (Life Style Modification) আর দ্বিতীয় চিকিৎসা হলো ঔষধ। খুবই ভাল সংবাদ হলো ঔষধ ছাড়া শুধু লাইফ স্টাইল মডিফিকেশন করে প্রেসার প্রায় ৩০-৩৫ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

ব্যায়াম করে আপনি প্রেসার কমাতে পারেন। দৈনিক ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচদিন ঘাম ঝড়িয়ে হাঁটলে আপনার প্রেসার তাতে ৫-৮ কমে যাবে।

ওজন কমালেও আপনার প্রেসার কমবে। ১ কেজি ওজন কমালে আপনার প্রেসার ১ কমবে। আপনার প্রেসার যখন ধরা পড়বে তখন আপনি দেখবেন আপনার ওজন কত। আপনার ওজন যদি বেশি থাকে তাহলে অন্তত ৫ কেজি কমিয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার প্রেসার ৫ কমে যাবে। তবে ওজন কখনো অতিরিক্ত কমানো ভাল নয়। সবসময় আদর্শ ওজন বজায় রাখতে হবে। আপনার জন্য আদর্শ ওজন কত সেটা কিভাবে বুঝবেন। আপনার উচ্চতা সেন্টিমিটারে যতো তা থেকে ১০০ বিয়োগ করলে যা হবে সেটাই হলো আপনার শরীরের জন্য আদর্শ ওজন। যেমন আপনার উচ্চতা যদি ১৭০ সেন্টিমিটার হয় তাহলে তা থেকে ১০০ বিয়োগ করলে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার আদর্শ ওজন ৭০ কেজি।

কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে প্রেসার কমে। ফলমূল, শাকসবজি, মাছ, শস্যদানা এবং সরছাড়া দুধ ও দুধ দিয়ে বানানো খাবার বেশি খেতে হবে। আর তেল, মাংস, চর্বি জাতীয় খাবার খুবই কম খেতে হবে। এটা মেইনটেইন করতে পারলে আপনার প্রেসার ১১ কমে যাবে।

লবণ কমাতে হবে। সারাদিনে আপনি ৫ গ্রামের মতো লবণ খেতে পারবেন অর্থাৎ এক চামচ লবণ খাবেন। এই লবন আপনার রান্নায় ব্যবহৃত হবে। আলাদা করে কোন লবণ খাবেন না। দোকান থেকে কেনা প্রিজারভড খাবারে লবন বেশি থাকে। এগুলো এড়িয়ে চলবেন। লবণ এড়িয়ে চলতে পারলে আপনার প্রেসার ৫ কমবে।

আর একদম খাওয়া যাবে না বিড়ি সিগারেট ও মদ বা এলকোহল জাতীয় পানীয়। এগুলো বাদ দিলে এতেও প্রেসার ৪ কমবে।

পটাশিয়াম বেশি আছে এমন খাবার নিয়মিত খেলে আপনার প্রেসার ৪ কমবে। কলা, কমলা, ডাবের পানি, আঙ্গুর ও বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে পটাশিয়াম বেশি থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে আপনি যদি রিলাক্সেশন থেরাপি প্রাক্টিস করেন যেমন মেডিটেশন, ইয়োগা বা নামাজের পর তসবিহ যাপন তাতেও আপনার প্রেসার তিন থেকে সাড়ে তিন কমে।

সবগুলো মিলিয়ে আপনার প্রেসার প্রায় ৩০-৩৫ কমে যাবে।

উপরের সবগুলো নিয়ম ৩ মাস প্র্যাকটিস করার পরেও যদি আপনার প্রেসার ১৪০/৯০ এর উপরে থাকে তখনই কেবল আপনাকে প্রেসারের ঔষধ খেতে হবে।

প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন স্ট্রোক, হার্টঅ্যাটাক, কিডনির সমস্যাসহ আরও নানান রকম বড় বড় শারীরিক সমস্যার হাত থেকে।

বাংলাদেশে যতো প্রেসারের রোগী আছে সবাই যদি এই নিয়মগুলো ফলো করে তাহলে প্রায় এক লক্ষ লোকের প্রেসারের ঔষধ বন্ধ করে দেয়া যাবে।

লেখক :



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top