ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


করোনা ভাইরাস আতঙ্ক: যেভাবে পিপিই পড়বেন


প্রকাশিত:
১৯ এপ্রিল ২০২০ ১৮:৫১

আপডেট:
২৬ নভেম্বর ২০২০ ১৮:৩৫

ফাইল ছবি

বর্তমান যুগে এই করোনা পরিস্থিতিতে আমরা কমবেশি সবাই একটা শব্দের সঙ্গে পরিচিত, আর সেটা হচ্ছে পিপিই বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম। এর সম্পর্কে খুব বিস্তারিত না জানলেও আমাদের দেশে বর্তমানে সর্বাধিত আলোচিত, ভাইরাল টপিক হচ্ছে এই পিপিইও সোশ্যাল মিডিয়াতে টাইমলাইন স্ক্রল করলেই দেখা যায় পিপিই পরিহিত সেলফি অথবা ছবি। আবার দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ পিপিই পরিহিত অবস্থায় অফিস করছেন, পেট্রোল পাম্প স্টেশনে তৈল ও বিতরণ করছেন কেউ কেউ।

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রোববার থেকে একমাত্র চিকিৎসকরাই যে এর যোগ্য ভাগিদার সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পিপিই যিনিই ব্যবহার করুন না কেন সবার আগে জেনে নিতে হবে আসলে কি এই মহার্ঘ্য বস্তু? কেনই বা পড়তে হবে? শুধু করি পরিধান নাকি তা সুন্দর করে নিষ্কাশনও করতে হবে? কিভাবে করতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

পিপিই হলো এমন কিছু সরঞ্জামের সমষ্টি যা মানুষের শরীরকে যেকোনো প্রকার আঘাত বা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে সাহায্য করে। যেকোনো ধরনের বায়ুবাহিত রোগ, কেমিক্যাল অথবা উচ্চ তাপমাত্রাজনিত সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয়। এগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন, শ^াসনালির সুরক্ষায় রেস্পিরেটর মেশিন, গ্লাভস, গগলস, হিয়ারিং প্রটেক্টর, বিভিন্ন ধরনের ল্যাব কোট, ফেস শিল্ড, বিভিন্ন ধরনের প্রোটেকটিভ ক্লদিং, স্যু কাভার। প্রফেশন অনুযায়ী আপনাকে আপনার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাকটি বেছে নিতে হবে।

সুরক্ষা পোশাকটি পেয়ে ছবি তো তুলবেনই, কিন্তু সেই পোশাকটি আসলেই কি আপনার সুরক্ষার জন্য কার্যকর নাকি আরও কয়েকগুণ মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে?

তাই এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক পিপিইর ডনিং অ্যান্ড ডাফিং। পিপিই পড়ার জন্য প্রথমেই খুব ভালো করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হ্যান্ড ক্লিন করতে হবে, খুব ভালো মতো ঘষে ঘষে হাতের কব্জি পর্যন্ত আঙুলের ফাঁকে, নখের ভেতরে, নখের কোনায় পরিষ্কার করতে হবে। এরপর একটি সুনির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করতে হবে। সম্ভব হলে একটি ডেস্ক ব্যবহার করুন যার ওপর সব সরঞ্জাম বিন্যস্ত থাকবে। এর পর একটা স্টেরাইল সিট নিয়ে ফ্লোরে বিছিয়ে নিন। সবার প্রথমে জুতার কাভার পড়ে নিন, এরপর ফ্লোরে বিছানো স্টেরাইল শিটের ওপর দাঁড়ান। স্যু কাভার বড় হলে গোঁড়ালির কাছে বেঁধে নিন এবং সম্ভব হলে পায়ের আঙ্গুলের পেছনের দিকে বেঁধে নিন।

এর পর আপনার জন্য নির্ধারিত সুরক্ষা পোশাকটির ভাঁজ খুলুন এবং পায়ের দিক থেকে পরিধান করুন এবং হাতের দিকে শার্টের মতো করে পড়ে সামনের চেইনটি লাগিয়ে নিন। মনে রাখবেন এই পোশাকগুলো ব্যবহৃত কাপড়ের মতো শক্ত টেকশই নয়, তাই সতর্কতার সঙ্গে পড়ুন যাতে ছিড়ে না যায়। এরপর সর্বাধিক সুরক্ষাকারী ঘ৯৫ মাস্ক যদি পাওয়া যায় সেটির সামনের দিকে হাত দিয়ে নিচের রাবার ব্যান্ডটি গলার দিকে এবং উপরের ব্যান্ডটি কানের ওপর দিয়ে মাথার ওপর সেট করুন। অন্যথায় সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন শুধুমাত্র ঘ৯৫ এবং সার্জিক্যাল মাস্ক ছাড়া বাজারে প্রচলিত আর কোনো মাস্কই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। মাস্ক পরার পর উপরের দিকে শক্ত রডের মতো অংশটুকু খুব ভালোমতো নাকের সঙ্গে ভালোভাবে চেপে লাগিয়ে নিন। গ্লাভস পড়ার আগে অবশ্যই আপনার হাতের সাইজ সুনিশ্চিত হয়ে নিন। এর পর মাথার অংশ কাভার করে। মুখের সামনের স্ট্র্যাপ অথবা বাটন লাগিয়ে নিন। মেয়েরা বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে, পুরো প্রক্রিয়াটি করার আগে সকল প্রকার অর্নামেন্টস পরিহার করুন এবং চুল ভালোমতো বেঁধে নিন।

কাজ শেষে আবার পূর্বনির্ধারিত জায়গায় চলে আসুন। প্রথমেই পোশাকের জিপ খুলে নিন। এর পর মাথার দিক থেকে রোল করে, হাত পেছনের দিকে নিয়ে পুনরায় রোল করে খুলে পায়ের দিক থেকে পোশাকটি খুলুন।

এই পর্যায়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে হাত কোনোভাবেই বাইরের দিকে না লাগে। এরপর জুতার কাভার খুলুন। এরপর একটি বায়োহ্যাজার্ড বা ডিসপোজাল ব্যাগ নিয়ে তার ভেতর পোশাকটি ফেলুনও গ্লাভস খোলার সময় সতর্ক হন যাতে কোনোভাবেই বাইরের দিক স্কিনের সঙ্গে না লাগে। গ্লাভসের ভেতরের দিকে আঙুল ঢুকিয়ে টেনেটেনে খুলুন। গগলসগুলো পুনরায় ব্যবহার যোগ্য হলে তা ওয়েট ওয়াইপার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুনও ফ্লোরের স্টেরাইল শিটটিও ব্যাগে ফেলুন অথবা অটোক্লেভ করুন। পুনরায় হাত পরিষ্কার করুন। টেপ দিয়ে বায়ো হ্যাজার্ড ব্যাগের মুখ বন্ধ করুন। এরপর ব্যাগের গায়ে বড় করে লিখুন (CONTAMINATED PPE) এরপর ব্যাগটি মাটিতে পুঁতে ফেলুন অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন।

মনে রাখবেন ওপরের প্রত্যোকটি স্টেপই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই স্টেপসের একটিও যদি আপনি বাদ দিন তাহলে পিপিই আপনার জীবন বাঁচানোর চেয়ে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি বহন করছে। তাই যারা পিপিই ব্যবহার করে অফিস করছেন, গার্ড দিচ্ছেন, দোকানদারি করছেন, আপনার কি জানেন যেভাবে পিপিই ব্যবহার করছেন তা কি আদৌ কার্যকর? কারণ পিপিই পড়া অবস্থায় কোনো করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যদি যান আর সেই পিপিই যদি আপনি বাসায় নিয়ে যান, অবস্থাটা তাহলে কি দাঁড়ায়? এবার বুঝতে পারছেন নিজের কতটা ক্ষতি করছেন?



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top