দাঁত সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো জেনে রাখা প্রয়োজন
প্রকাশিত:
১৭ জুলাই ২০২১ ১৬:১৭
আপডেট:
১৭ জুলাই ২০২১ ১৬:২৩

"দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝে না" প্রবাদটি বেশ প্রচলিত। সুস্থ-সুন্দর দাঁত শরীর ও মনকে প্রফুল্ল রাখে। দাঁতের যন্ত্রণা কতটা কষ্টদায়ক? তা কেবল ভুক্তভোগীই জানে। তাই দাঁতের যত্ন নিন ও নিয়মিত পরিচর্যা করুন। সুস্থ-সবল দাঁতের যত্নে কী করতে হবে চলুন জেনে নেই -
১) ৬ মাস থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চার দুধ দাঁত উঠবে।
২) ছয় বছর বয়সের পর থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত বাচ্চার মূল দাঁত উঠবে।
৩) আক্কেল দাঁত উঠবে সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে।
৪) বাচ্চার দুধ দাঁতগুলো সাধারণত ৬ বছর বয়সের আগে থেকে ক্রমানুসারে পড়তে থাকবে।
৫) বাচ্চাকে অন্তত ২ বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াবেন যা দাঁত ও চোয়ালের গড়নে সহায়তা করে।
৬) ঘুমন্ত অবস্থায় বাচ্চাকে ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়াবেন না। ফিডারে দুধ খাওয়ালে দাঁতে ক্ষয়রোগ হয়।
৭) বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর পর তুলাতে সামান্য পানি ভিজিয়ে দাঁতের পৃষ্ঠে ঘষে দেবেন যা ক্ষয়রোগ থেকে দাঁতকে রক্ষা করবে।
৮) বড়দের দাঁতের ক্ষেত্রে যদি দাঁতের মধ্যে কালোদাগ বা ক্ষয়রোগ বা ডেন্টাল ক্যারিজ দেখা যায়, তাহলে ব্যথা হওয়ার আগেই (ডেন্টাল সার্জন) ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ফিলিং করিয়ে নিবেন। মনে রাখবেন যত দেরি করবেন, তত বিপদ। অর্থাৎ, দাঁতে ব্যথা শুরু হবে এবং সে ক্ষেত্রে আর ফিলিং-এর মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না।
৯) ব্যথাযুক্ত দাঁতের ফিলিং করা যায় না। সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল করে দাঁতকে ব্যথামুক্ত করতে হয়। মনে রাখবেন, রুট ক্যানেল চিকিৎসা বয়বহুল তাই ব্যথা শুরুর আগেই দাঁত ফিলিং করিয়ে নিন।
১০) দাঁতের মুকুট বা ক্রাউন যদি বেশি ভেঙ্গে যায় অথবা চারদিকের যে কোন একদিকে দাঁতের দেয়াল ভাঙ্গা থাকে সেক্ষেত্রে ফিলিং দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ব্যথাযুক্ত দাঁত হলে রুট ক্যানেল করে তার উপর কৃত্রিম মুকুুট বা ক্রাউন পরিয়ে দেয়া হয় যা দাঁতকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দেয়।
১১) তাই দাঁতের মুকুট বা ক্রাউন বা ক্যাপ ধরতে হলে একটু বেশি দাম দিলে উন্নত ক্যাপ লাগানোই উচিত হবে।
১২) প্রতি ৬ মাস অন্তর উন্নত দেশে দাঁত ওয়াশ বা স্কেলিং করে থাকে। রোগীরা আমাদের দেশে আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনে প্রতি বছর অন্তত একবার স্কেলিং করানো ভালো।
১৩) আজকাল দাঁতে অনেক উন্নত ধরনের ফিলিং করা যায়, দাঁতের কালারের সাথে মিশে যায়।
১৪) শিশুর প্রথম ৬ বছর অন্তত ৩ বার ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন, নতুবা দুধ দাঁতগুলো ঠিক সময়ে না পড়ে অনেক দেরিতে পড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে মূল দাঁত ঠিক সময় ঠিক জায়গায় না উঠে আঁকা-বাঁকাভাবে অন্যত্র উঠতে পারে। ফলে চোয়াল ও দাঁতে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। আবার সময়ের আগেই দুধ দাঁত পড়ে গেলে ও পরে উঠার মূল দাঁত আকা-বাঁকা হতে পারে।
১৫) বাচ্চার আকা-বাঁকা দাঁতগুলো সাধারণ ৮ থেকে ১৩ বছরে মধ্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করিয়ে নিতে হবে।
১৬) মনে রাখবেন, দাঁত স্কেলিং করলে দাঁতের মাড়ি সুস্থ ও সবল থাকে।
১৭) অনেকের ধারণা স্কেলিং করলে দাঁতের গোড়া আলগা হয়ে যায়। আসলে ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। বরং দাঁতের গোড়ার পাথর দাঁতকে মাড়ি থেকে আলগা করতে থাকে এবং দীর্ঘদিন একরকম পাথর জমতে থাকলে মাড়ির প্রদাহ জনিত রোগ হয়।
১৮) আপনার ভাঙ্গা দাঁত বা দাঁতের গোড়া ব্যথা না করলে ও ফেলে দিন নতুবা দীর্ঘদিন এ অবস্থা থাকলে মারাত্মক রোগ যেমন_ চোয়ালে সিস্ট, টিউমার এমনকি ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি করতে থাকে।
১৯) দাঁত তোলার আগে রোগীর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) হৃদরোগ (হার্ট ডিজিজ), জন্মগত হৃদরোগ, প্রোস্থেটিক বডি পার্টস, ডায়াবেটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত হতে হবে।
২০) বাচ্চাকে চকলেট জাতীয় খাবার খেতে বারণ করা উচিত। এগুলো দাঁতের ক্ষয়রোগ সৃষ্টি করে।
লেখক : ডেন্টাল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
সম্পর্কিত বিষয়:
দাঁত
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: