ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬শে জানুয়ারী ২০২১, ১৩ই মাঘ ১৪২৭


এক দপ্তরের ফাইল আরেক দপ্তরে

বেকায়দায় রাজউকের হাসান-স্কাই


প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী ২০২১ ১০:৩৬

আপডেট:
১২ জানুয়ারী ২০২১ ১৬:৪৬

ফাইল ছবি

একজনের প্লট অন্যজনকে দেয়া, ফাইল থেকে নথি গায়েব ও ফাইল আটকে ঘুষ আদায়সহ নানা অনিয়মে জর্জরিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। খোদ চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশই কমবেশী অনিয়মের সাথে জড়িত। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজউকের চেয়ারম্যান ও একজন প্রভাবশালী পরিচালকসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবুও থামছে না। দুর্নীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না কিছুতেই। একটার পর একটা লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়মের খবরে ইদানিং বেশ সরগরম সরকারী এ প্রতিষ্ঠানটি।

রাজউকের নিম্নমান সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক (ওয়ার্কচার্জড) ইমাম হাসান ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মোশাররফ হোসেন (স্কাই) এর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা উভয়েই মোটা অংকের বিনিময়ে বেআইনীভাবে ফাইলের নথি বহিরাগতের কাছে হস্তান্তর করেছেন। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গোল্ডেন মনিরের সহযোগি হিসেবেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মোশাররফ হোসেন স্কাই এর নাম এসেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর রাজউক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নিম্নমান সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক (ওয়ার্কচার্জড) ইমাম হাসান পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার ৩০৪১ নং কোডের ১০-৩০৫-০০৯ নং প্লটের নথি রাজউকের রেকর্ড হতে গ্রহণ করেন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (ডিজাইন) দপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মোশাররফ হোসেন (স্কাই) রেজিস্টারে স্বাক্ষরপূর্বক ফাইলটি ইমাম হাসানের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। পরবর্তিতে একজন বহিরাগতের মাধ্যমে উল্লেখিত ফাইলটি রাজউক চেয়ারম্যানকে হস্তান্তর করা হয়।

ইমাম হাসানের এহেন কর্মকান্ড অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং অমার্জনীয় অপরাধের শামীল উল্লেখ করে গত ০৭ জানুয়ারি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পিডিকে পত্র (স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০০৯.২৭.২২০(৬).২০২০-৮৪) দেন রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ হাসান। বিষয়টি অতীব জরুরী উল্লেখ করে এরুপ গুরুতর কর্মকান্ডের জন্য পরিচালক এস্টেট ও ভূমি-২ এর দপ্তর হতে ইমাম হাসানকে দ্রুত প্রত্যাহারসহ বরখাস্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহণের জন্য অনুরোধক্রমে নির্দেশ করা হয়েছে। অথচ অদ্যাবধি ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই।

এদিকে পরিচালক এস্টেট ও ভূমি-২ এর দপ্তরে কর্মরত না থেকেও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার ৩০৪১ নং কোডের ১০-৩০৫-০০৯ নং প্লটের নথিটি গত ১৩ ডিসেম্বর নিজে স্বাক্ষর করে গ্রহণ এবং নথিটি বহিরাগতের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করার অপরাধে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন) এর দপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মোশাররফ হোসেন স্কাইকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ হাসান স্বাক্ষরিত নোটিশে (স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০০৯.২৭.২২০(৬).২০২০-৮৩) বলা হয়েছে, মোশাররফ হোসেন স্কাই এর এহেন কর্মকান্ড অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০১৩ এর ৩৭ (খ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও বিধি ৩৭ (চ) অনুযায়ী চুরি ও আত্মসাতের শামিল।

নোটিশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০১৩ এর ৩৭ (খ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও বিধি ৩৭ (চ) অনুযায়ী চুরি ও আত্মসাতের অপরাধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য মোশাররফ হোসেন স্কাইকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায় মোশাররফ হোসেন স্কাই এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পরিচালক এস্টেট ও ভূমি-২ এর দপ্তরে কর্মরত না হয়েও মোশাররফ হোসেন স্কাই উল্লেখিত ফাইলটি মোটা অংকের বিনিময়ে ইমাম হাসানের কাছ থেকে নিজের হেফাজতে নেন। ঘটনা জানাজানি হলে একজন বহিরাগতের মাধ্যমে ফাইলটি রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি রাজউকের একজন পরিচালকের মাধ্যমে তদবির করছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top