ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট

বর্ণবাদ প্রসঙ্গে ট্রাম্প-বাইডেনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ


প্রকাশিত:
২৩ অক্টোবর ২০২০ ১১:৫১

আপডেট:
২৩ অক্টোবর ২০২০ ১৯:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (বাঁয়ে) সঙ্গে শেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে অংশ নেন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের শেষ প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে উঠে এলো নানা প্রসঙ্গ। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেননি। কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব থেকে শুরু করে বর্ণবাদ—বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার সকালে বিতর্কে লিপ্ত হন ট্রাম্প ও বাইডেন। সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এ খবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার সকাল ৭টায় টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলের বেলমন্ট ইউনিভার্সিটিতে চূড়ান্ত বিতর্কে মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন।

আগেই ঠিক হয়েছিল, বক্তৃতার মধ্যে কথা বলা যাবে না। আর বললেও তা শোনা যাবে না। আয়োজক ডিবেট কমিশন জানিয়েছিল, ট্রাম্প-বাইডেনের শেষ বিতর্কে ‘মিউট সুইচ’ ব্যবহার করা হবে। কাজ হয়েছে সেই মিউট সুইচে। নির্বাচনের আগে শেষ বিতর্কে সংযত আচরণ করেছেন ট্রাম্প-বাইডেন। তবে কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দেননি। চীন থেকে উত্তর কোরিয়া, করোনাভাইরাস থেকে বর্ণবাদ—বিতর্কে উঠে এসেছে অনেক প্রসঙ্গ। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, আরো চার বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের অভিযোগ, জো বাইডেনের ছেলে ইউক্রেন ও চীনের সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে এবং জো বাইডেন চীন ও ইউক্রেনের অবৈধ অর্থ রোজগার করেন।

চূড়ান্ত বিতর্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে আক্রমণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য, জো বাইডেনের ছেলে হান্টারের ল্যাপটপের রেকর্ড তাঁর কাছে আছে। হান্টার ইউক্রেন ও চীনের সঙ্গে এখনো অবৈধভাবে ব্যবসা করছে। বাইডেনও সেই অর্থের ভাগ পাচ্ছেন।

বাইডেন অবশ্য ট্রাম্পের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। বাইডেনের পাল্টা অভিযোগ, মুখে বড় বড় কথা বললেও চীনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি ট্রাম্প। বাইডেনের আরো অভিযোগ, বিশ্ব রাজনীতিতে চীন যেভাবে চলছে, তা অনৈতিক। এর বিরুদ্ধে মার্কিন জোট তৈরি করে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা দরকার। কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্প তা করছেন না। কেবল মুখেই বড় বড় কথা বলছেন ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়, বাইডেন আরো অভিযোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে ট্রাম্প দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় দিয়েছেন। কারণ, উত্তর কোরিয়া গণতন্ত্র মানে না। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারে না।

বাইডেনের অভিযোগের পর ট্রাম্পের জবাব, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি না করলে পৃথিবী পরমাণু যুদ্ধ দেখত। উত্তর কোরিয়া লাগাতার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলছিল। সেখান থেকে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই বিষয়টিকে ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। এ ছাড়া যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন, তাও প্রশংসাযোগ্য বলে মনে করেন ট্রাম্প।

এ ছাড়া ট্রাম্প-বাইডেনের শেষ বিতর্কে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছিল বর্ণবাদের প্রসঙ্গ। গত বিতর্কে এ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য শুনে অতি ডানপন্থি সংগঠনগুলো প্রেসিডেন্টকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। তবে এবারের বিতর্কে ট্রাম্প কোনো বিতর্কিত মন্তব্যের রাস্তাতে হাঁটেননি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দীর্ঘ মার্কিন ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে নিরপেক্ষ মানুষ। বর্ণবাদ যাতে প্রশ্রয় না পায়, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা তিনি করেছেন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের বক্তব্য, লিঙ্কনকে বাদ দিলে তাঁর (ট্রাম্প) মতো বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আর কেউ লড়াই করেননি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ বলে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা কেন আন্দোলন করছেন, তা বুঝতে তিনি পারছেন না। যদিও গণতন্ত্রে সবারই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্প এড়িয়ে যেতে চাইলেও বর্ণবাদ প্রসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বাইডেন। তাঁর বক্তব্য, ট্রাম্পের আমলে বর্ণবাদ ফের যুক্তরাষ্ট্রে মাথাচাড়া দিয়েছে। লিঙ্কনের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প মার্কিন ইতিহাসকে অপমান করেছেন। বাইডেনের বক্তব্য, ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ তৈরি হয়েছে। বাইডেন এদিন বলেছেন, আরো চার বছর ট্রাম্পের হাতে ক্ষমতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্র এতটাই ডুবে যাবে যে তাকে আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়াবে। বর্ণবাদ প্রসঙ্গে ট্রাম্পও এদিন বাইডেনকে আক্রমণ করেছেন। বাইডেন মেয়র থাকাকালে একটি আইনের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেছেন, কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল বাইডেনের ওই আইন।

বর্ণবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি এদিনের বিতর্কে জরুরি বিষয় ছিল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বাইডেন জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে তিনি সবার জন্য সুলভ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা করবেন। এর বিপরীতে ট্রাম্পের বক্তব্য, তিনিও স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে কাজ করবেন। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, করোনাকালে মার্কিন স্বাস্থ্য অবস্থার কঙ্কাল বেরিয়ে গেছে। এদিনের বিতর্কে করোনা নিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি কেবল বলেছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে করোনার ভ্যাকসিন চলে আসবে। অবশ্য এ কথা কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প বলছেন। অন্যদিকে, বাইডেন করোনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন। বাইডেন বলেছেন, করোনা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন ট্রাম্প।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top