বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২০শে চৈত্র ১৪৩১

Shomoy News

Sopno


বিশ্বব্যাপি করোনা

৪২ লাখ আক্রান্তের মধ্যে থেকে সুস্থ হলেন ১৫ লাখ


প্রকাশিত:
১৩ মে ২০২০ ০১:৫৫

আপডেট:
১৩ মে ২০২০ ০৩:১৮

ফাইল ছবি

বর্তমানে করোনা নিয়ে মহাবিপদে আছে পুরো বিশ্ব। বৈশ্বিকমহামারী এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে। প্রতিটি দেশই এখন এই প্রাণঘাতীকে নিয়ে মহাব্যস্ত। প্রতিদিই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দিনদিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে কয়েকটা দেশের পরিস্থিতি। তবে আশার বাণী হচ্ছে, প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বিশ্বের ১৫ লাখের মত মানুষ।

নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর আতঙ্ক জেঁকে বসা বিশ্বে স্বস্তির খবর মিলছে খুবই কম। চীনের গণ্ডি পেরিয়ে দেশে দেশে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া এই ভাইরাস শতাব্দির ভয়াবহ আতঙ্ক নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সোমবার এই সংখ্যা পেরিয়েছে ১৫ লাখ, স্বস্তি আপাতত এতটুকুই।

তবে এর বিপরীতে প্রাণহানি ঘটেছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ১০২ জনের। যা মৃত্যু এবং আক্রান্তের প্রায় ১৬ শতাংশ। সোমবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৫ জন, মৃত্যু এবং আক্রান্তের হারে যা প্রায় ৮৪ শতাংশ।

বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা এখন ৪৩ লাখ। বর্তমানে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬৩১। এই আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ জনের অবস্থা তেমন গুরুতর নয় বরং সুস্থ হয়ে ওঠার পথে; হালকা অসুস্থ এই রোগীর হার ৯৮ শতাংশ।

তবে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের গুরুতর কিংবা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন ৪৭ হাজার ৩৮ জন; যা সংক্রমিত রোগীর (২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬৩১ জনের) মাত্র ২ শতাংশ।

প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু এবং সংক্রমণ। চীনে গত বছরের ডিসেম্বরে একেবারে নতুন এই ভাইরাসটি মাত্র ৪ হাজার ৬৩৩ জনের প্রাণ কাড়লেও মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু দেশকে।

একক দেশ হিসেবে করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ৮০ হাজার ৭৮৭ জন। আক্রান্তের তালিকাতেও শীর্ষে থাকা এই দেশটিতে বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৩ জন। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৬ জন। বাকি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৮৪০ জন এখনও করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সর্বাধিক মৃত্যু যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ হাজার ৮৫৫ জন; যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ইউরোপে সর্বাধিক।

যুক্তরাজ্যের পর ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০ জন, মারা গেছেন ৩০ হাজার ৫৬০ জন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৬ জন।

ইউরোপে করোনার লাগামহীন বিস্তারে আপাত ভাটা পড়লেও এবার এশিয়া হয়ে উঠছে এই ভাইরাসের কেন্দ্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনার নতুন কেন্দ্র হতে পারে এশিয়া। এই অঞ্চলের দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে প্রাণ হারাতে পারেন লাখ লাখ মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই আশঙ্কা উদ্বেগ বাড়িয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের। এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যু প্রত্যেকদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই অঞ্চলে ৬ হাজার ৬৪০ জনের মৃত্যু নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে ইরান। করোনায় মৃত্যুতে তারপরই আছে চীন (৪,৬৩৩ জন), তুরস্ক (৩,৭৮৬ জন)। এরপরই আছে বাংলাদেশের প্রতিবেশি ভারত; দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২ হাজার ২১২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ২৫৯ জন।

পুরো এশিয়ায় বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৪ এবং প্রাণহানি ঘটেছে ২২ হাজার ২৪০ জনের। মহাদেশের হিসাবে প্রাণহানির এই সংখ্যা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকার পর চতুর্থ সর্বোচ্চ।

করোনাভাইরাসের কারণে চাপের মুখে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ভাইরাসটির লাগাম টানার কৌশল হিসেবে লকডাউন ও সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার মতো নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা প্রাণঘাতী এই নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির নিরলস প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনার সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিনের জন্য শতাধিক গ্রুপ দিনরাত কাজ করছেন।

একটি কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি করতে বছরের পর বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ ভ্যাকসিন তৈরির পর তা মানবদেহে প্রয়োগ করে কার্যকরিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নিরাপদ কিনা তা যাচাই করা হয়। এসব করতেই দীর্ঘদিন সময় লেগে যায়। আবার করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত রূপ বদলে ফেলায় তৈরিকৃত ভ্যাকসিন কাজ করবে কিনা সেটিও চিন্তায় ফেলছে বিজ্ঞানীদের।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্ভাব্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। ফল যাচাইয়ের পর মিলবে চূড়ান্ত অনুমোদন। আর এই কাজও অনেক সময়সাপেক্ষ। তবে অন্তত দেড় থেকে দুই বছর কিংবা কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে একটি চূড়ান্ত ভ্যাকসিন পেতে। এইচআইভির ভ্যাকসিনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, হয়তো করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম নাও হতে পারেন বিজ্ঞানীরা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:




রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected]; [email protected]
সম্পাদক : লিটন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top