রবিবার, ৮ই মার্চ ২০২৬, ২৪শে ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ইরানের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে যৌথ অভিযান চালানোর চিন্তা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
তবে এমন অভিযানে, ইরানের মাটিতেই মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনা নামাতে হতে পারে: যা যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিকে নিজের যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৫০ কেজি (৬০ শতাংশ) সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্র নির্মাণের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তাই এই মজুতই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগ।
তবে রাফায়েল গ্রসি এও জানিয়েছিলেন, ইরানে পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকাঠামোর কোন চিহ্ন বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কিন্তু ঘুরে-ফিরে ইউরেনিয়াম জব্দ করাতে অটল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই ইউরেনিয়াম দখলে নিতে হলে, ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে শক্তভাবে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অভিযান চালাতে হবে।
এমন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল অথবা যৌথ বাহিনী অংশ নিতে পারে। তবে সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ করতে হলে 'কাউকে ইরানে গিয়ে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসতেই হবে।'
তবে কারা এই অভিযান চালাবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে: একটি হলো ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া, অন্যটি হলো, সেখানেই বিশেষজ্ঞদের এনে সেটির ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া।
এই অভিযানে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার বিজ্ঞানীরাও যুক্ত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (৭ মার্চ) প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে 'খুবই শক্ত কারণ' এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে তা দিয়ে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। আর তাই চলমান যুদ্ধে এই মজুতই এখন সবচেয়ে বড় কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)