ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর ২০২০, ১০ই কার্তিক ১৪২৭


অর্থ আত্মসাতের মামলায় আজ চট্টগ্রাম আদালতে নেয়া হচ্ছে সাহেদকে


প্রকাশিত:
১১ অক্টোবর ২০২০ ১০:৩৫

আপডেট:
১১ অক্টোবর ২০২০ ১০:৪৯

ছবি-সংগৃহীত

ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচিত মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের অর্থ আত্মসাতের মামলায় হাজিরার জন্য আজ চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে তাকে আদালতে নেয়া হতে পারে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাহেদকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের জেলার রফিকুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, ঢাকায় রুট পারমিট পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরস থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় রোববার আদালতে হাজিরার জন্য সাহেদ করিমকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেগা মোটরসের আমদানি করা থ্রি-হুইলার ঢাকা সিটিতে চলাচলের রুট পারমিটসহ চলাচলের আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নিয়ে দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম এ টাকা আত্মসাত করেন।

এজন্য সাহেদ করিম মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকা অ্যাভিনিউ গেট শাখার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নগদ ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

একই বছরের ২৫ জানুয়ারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার মাধ্যমে চার লাখ ৭৫ হাজার, ৩০ জানুয়ারি পাঁচ লাখ, ১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ লাখ, ১৩ ফেব্রুয়ারি ছয় লাখ, ১৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি দুই লাখ টাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি দুই লাখ টাকা, ৫ মার্চ এক লাখ টাকাসহ মোট ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সাহেদ করিম।

এছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি ১৮ লাখ, ৮ ফেব্রুয়ারি ছয় লাখ, ২০ ফেব্রুয়ারি এক লাখ ও ৭ মার্চ সাত লাখ টাকা মেসার্স মেগা মোটরসের অফিসে এসে নগদ গ্রহণ করেন রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম।

বিভিন্ন লোকজনের নাম ভাঙিয়ে মোট ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ মেগা মোটরসকে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা একটি পরিপত্রের ফটোকপি দেন সাহেদ করিম। সেখানে ২০০ সিএনজি থ্রি-হুইলারকে ঢাকা সিটিতে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ ছিল। পরে মেসার্স মেগা মোটরস কর্তৃপক্ষ বিআরটিএতে যোগাযোগ করলে পরিপত্রের ফটোকপিটি ভুয়া বলে জানতে পারেন মেসার্স মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

প্রসঙ্গত, সাহেদ করিম ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আলোচনায় আসার পর গ্রেফতার হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top