শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল ২০২৬, ৩রা বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
গণঅভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবনের তার লুজ হয়ে যাওয়ায় অধিবেশনে টেবিল চাপড়ানোর সময় সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট ঘটে বলে দাবি করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে এমন দাবি করেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। দুদকের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাহিদুর রহিম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনের তার লুজ থাকায় অধিবেশনে টেবিল চাপড়ানোর সময় সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট ঘটে। সংস্কার কাজের প্রথম অংশ করেছিল আমানত এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু তাদের কারিগরি অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় শেষ পর্যায়ের কাজটুকু তার প্রতিষ্ঠানকে করতে হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সার্বিক বিষয়ে বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজন অনুসারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গণপূর্ত কাছে চাহিদা দেওয়া নথিপত্র পেতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুদকের অনুসন্ধান কাজ চলমান থাকবে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত ‘এসআইএস’ সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই উন্নয়ন কাজের আড়ালে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ বা কেনাকাটায় প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন তিনি।
এ ছাড়া, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই কৌশলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর।
অভিযোগ রয়েছে, কেবল সিস্টেমটি পরীক্ষার জন্যই প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন ও সম্মানী বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পুরো সিস্টেমটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে উচ্চমূল্যের প্রাক্কলন তৈরি করার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)