অ্যাপল সাইডার ভিনিগার গুণাগুন
প্রকাশিত:
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২১:৩৬
আপডেট:
৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৪:০৮

অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের গুণগান শোনা হয়নি এমন কোনো স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ খুঁজে পাওয়া হয়ত যাবে না।
তবে সেই গুণগানের কতটুকু সত্যি?
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া’র পুষ্টিবিদ জিনা কনসালভোর তথ্যানুসারে পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত।
সালাদের ড্রেসিং হিসেবে খাওয়া, ত্বকের সৌন্দর্যচর্চা, বিভিন্ন বস্তু পরিষ্কার করা ইত্যাদি বহুমুখী ব্যবহার আছে এই দ্রবণটির। সকাল বেলা খালি পেটে এই ভিনিগার পানিতে মিশিয়ে পান করা মানুষও আজকাল কম নয়।
তাই প্রায় সব ঘরেই এর দেখা মেলে।
আপেলের রসকে ব্যাক্টেরিয়া ও ‘ইস্ট’য়ের মিশ্রণের সাহায্যে ‘ফার্মেন্টেশন’ বা গাঁজানোর মাধ্যমে তৈরি হয় অ্যাপল সাইডার ভিনিগার। ‘ইস্ট’ থেকে তৈরি হয় অ্যালকোহল আর তাকে ভিনিগারে পরিণত করে ‘অ্যাসিটিক অ্যাসিড’ প্রস্তুতকারী ব্যাক্টেরিয়া।
এছাড়াও এতে থাকে সিট্রিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড, গ্যালিক অ্যাসিড, ক্যাটেচিন, এডিক্যাটেচিন, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ইত্যাদি উপাদান।
এদের সবগুলোই জৈবসক্রিয় উপাদান; যাদের আছে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’, ক্যান্সার প্রতিরোধক এবং প্রদাহনাশক গুণ।
বাজারে মেলে ‘আনফিল্টারড অ্যাপল সাইডার ভিনিগার’। মানে হল এই ভিনিগার থেকে ব্যাক্টেরিয়া ও ‘ইস্ট’ অপসারণ করা হয়নি। এই দ্রবণে মেলে বিভিন্ন ‘এনজাইম’ আর অন্ত্রের জন্য উপকারী ‘প্রোবায়োটিক’ ব্যাক্টেরিয়া।
স্বাস্থ্যগুণের ক্ষেত্রে যা দাবি করা হয়
রান্নার স্বাদে ভিন্ন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানো, ওজন কমানো, হজম শক্তি বাড়ানো ইত্যাদি নানা স্বাস্থ্যগুণ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার থেকে পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।
গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১২ সপ্তাহব্যপি প্রতিদিন এক থেকে দুই চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার সেবনের মাধ্যমে ওজন, চর্বি দ্রুত কমতে দেখা গেছে।
তবে এই সুবিধার মাত্রা তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।
আবার অ্যাপল সাইডার ভিনিগার সেবনের পাশাপাশি শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে আরও বাড়তি সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
আরেক গবেষণার দাবি, অ্যাপল সাইডার ভিনিগার রক্তে ‘লিপিড’ জমার মাত্রা কমায়। এই ‘লিপিড’ কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য দায়ি। উচ্চমাত্রার কোলেস্টরল থাকা ব্যক্তিদের দিনে দুবার দুই চামচ পরিমাণ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার খাওয়ার পরামর্শ দিলে আট সপ্তাহের মাথায় তাদের কোলেস্টেরল ও ‘ট্রাইগ্লিসেরাইড’য়ের মাত্রা কমতে দেখা যায় ওই গবেষণায়।
তবে অন্যান্য গবেষণায় তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে না পড়ায় এই বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
‘ইন্টিগ্রেইটেড মেডিসিন অ্যালার্ট’ শীর্ষক সাময়িকী একাধিক গবেষণার সারমর্মের ভিত্তি অ্যাপল সাইডার ভিনিগারকে জুড়ে দেয় রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর সঙ্গে।
পেট লম্বা সময় ভরা রাখার মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এই ভিনিগার, যা পক্ষান্তরে ক্ষুধা কমানোর মাধ্যমে খাওয়ার পরিমানেও লাগাম দেয়।
তবে এখানেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পেতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আসলেই কি স্বাস্থ্যকর?
মোদ্দা কথা হলো, অ্যাপল সাইডার ভিনিগার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এমন ইঙ্গিতের অভাব নেই। তবে এটি কোনো জাদুর দ্রবণ নয়, যা আপনার সব সমস্যার সমাধান করে দেবে।
ওজন কমাতে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার সাহায্য করে ঠিক। তবে শরীরচর্চা আর খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ না করলে লাভ হবে না। আর অম্লীয় খাবার খেতে যদি সমস্যা না হয়, তাহলে এই ভিনিগার খাদ্যাভ্যাসে থাকা কোনো ক্ষতির কারণ হবে না।
যেভাবে খাদ্যাভ্যাসে একে রাখতে পারেন
বড় এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল-চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করতে পারেন।
‘কার্বোহাইড্রেট’ বেশি এমন খাবার খাওয়ার আগে এই ভিনিগার খাওয়া বিশেষ উপকারী।
কারণ এমন খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। আর অ্যাপল সাইডার ভিনিগার তা সামাল দিতে আদর্শ।
দিনে দুই টেবিল-চামচের বেশি গ্রহণ করা যাবে না। যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন তাদের অ্যাপল সাইডার ভিনিগার গ্রহণ শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
সম্পর্কিত বিষয়:
যুক্তরাষ্ট্র
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: