হাটে ক্রেতা সংকট, বিক্রেতারা হতাশা
প্রকাশিত:
৩০ জুলাই ২০২০ ১৮:৪৫
আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:২৩

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুই দিন। প্রতি বছর এমন সময় পশুর হাট জমে উঠলেও এবার করোনার প্রভাবে কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতা সংকটের মুখে পড়ে বিক্রেতারা হতাশায় ভুগছে। এরইমধ্যে কোরবানির পশুতে রাজধানীর হাটগুলো কানায় কানায় ভরে গেছে। ইজারাদাররাও হাঁক-ডাক দিয়ে ক্রেতা আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নগরীর হাটগুলোতে যে পরিমাণ কোরবানি পশু রয়েছে সে তুলনায় ক্রেতা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, পশুর প্রকৃত দামের তুলনায় অর্ধেকও দাম বলছেন না ক্রেতারা। যারা হাটে আসছেন তারা শুধু ঘুরে ঘুরে দেখছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সরেজমিনে দুই সিটির কয়েকটি হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাওলা শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের ইজারাদার মো. রুবেল শওকত বলেন, হাটে মানুষই নেই। পশুও কম। বেচা-বিক্রিও নেই। কাল থেকে হয়তো কিছুটা শুরু হতে পারে। এ বছর যেটা মনে হচ্ছে, মানুষের কাছে টাকা নেই। সে কারণে তারা দামও বলছেন না। এতে বেপারিরা অনেক আতঙ্কে আছেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর সাঈদ নগর পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটজুড়ে রয়েছে বড় বড় গরু। বিক্রেতারা মাঠে শামিয়ানা দিয়ে ঘর তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে পশু রেখেছেন। পাশাপাশি হাট ইজারাদারও প্যান্ডেল তৈরি করে হাসিল আদায়ের জন্য বসে আছেন। কিন্তু সকাল পর্যন্ত কোনও হাসিল আদায় হয়নি। ক্রেতাদের তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে হাতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক বিক্রেতা।
জানতে চাইলে নাটোর থেকে আসা গরুর বেপারি মোস্তফা বলেন, তিন দিন হলো গরু নিয়ে এসেছে। অল্প কয়েকজন মানুষে এসেছে। তারা যে দাম বলছে তা কেনা দামের অর্ধেকও হচ্ছে না। এখনও বসে আছি। দেখি আরও তো দুইটা দিন আছে।
নাটোর থেকে ৪০টি গরু নিয়ে এসেছেন হুমায়ুন বেপারি। তিনি জানান, কয়েকটি গরু তার নিজের খামারের। আর কয়েকটি কিনে এনেছেন। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি গরু অনেক বড়। যেগুলো তিনি ৩ লাখ টাকা করে কিনেছেন। পাশাপাশি চার মাস নিজের খামারে লালন পালন করেছেন। এখন তিন লাখ টাকা দিয়ে যে গরুগুলো কিনেছেন সেগুলো মানুষ দুই লাখের বেশি বলছে না।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেরাদিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে কোরবানির পশু রাখা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনও ক্রেতা নেই। ক্রেতা দেখলেই বিক্রেতারা আগ্রহের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ক্রেতাদের থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছেন না তারা।
জানতে চাইলে নাটোর থেকে আসা গরুর বেপারি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বেশি আতঙ্ক লাগছে। আর মাত্র দুই দিন বাকি। কিন্তু এখনও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে গরু নিয়ে আবার বাড়ি ফেরত চলে যেতে হবে। বুঝতে পারছি না কী যে হবে।
একই অবস্থা দেখা গেছে খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন মৈত্রী সংঘ মাঠ হাটে। হাটটিতে গিয়ে দেখা গেছে নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের বাসাবাড়ির সামনে এবং রাস্তায়ও কোরবানির পশু রাখা হয়েছে। পুরো এলাকা কানায় কানায় ভর্তি হয়ে রয়েছে। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম। যে কয়জন ক্রেতা দেখা গেছে তারাও ঘুরে ঘুরে দেখছেন। তবে এই হাটটিতে স্বাস্থ্যবিধির কোনও নমুনা দেখা যায়নি। হাটে আগত মানুষের মুখে মাস্কও ছিল না। তবে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাটের কট্রোল রুম থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
এই হাটে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, অনেক হতাশায় আছি। মানুষ গরুর দাম বলছে না। এবার মনে হয় লাভ তো দূরের কথা, চালানও তুলতে পারবো না। মানুষের এমন অবস্থা, যেন গরু নিয়ে ফেরত যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এক সময় হাটে গরু নিয়ে টানাটানি হতো। কিন্তু এ বছর কোনও জৌলুস নেই। ইজারাদাররা যেমন বেকায়দায় আছে ঠিক আমরাও হতাশায় আছি। জানি না কপালে কী আছে?
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: