ফিলিস্তিন সংকট শুধু মুসলমানদের উদ্বেগের বিষয় নয়, এটি মানবিক: প্রধান উপদেষ্টা
প্রকাশিত:
২৭ মার্চ ২০২৫ ১৭:০৬
আপডেট:
৩১ মার্চ ২০২৫ ০৩:২২

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজকের বহু-সঙ্কটের বিশ্বে যুদ্ধ এবং সংঘাত অধিকার খর্ব করে এবং অর্থনীতিকে ব্যাহত করে। বিশ্বব্যাপী নিন্দা সত্ত্বেও গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিস্তিন সংকট শুধু আরব বা মুসলমানদের উদ্বেগের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক বিষয়। ইউক্রেনে অব্যাহত উত্তেজনা বৈশ্বিক সরবরাহ চেনে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে। মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংকট আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) চীনের হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা মিয়ানমারের নাগরিক। আমরা উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ব্যয় বহন করে চলেছি। সম্প্রতি সংহতি জানিয়ে ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। যদিও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে কিন্তু তা অব্যাহত রয়েছে, তবে এশীয় নেতাদের অবশ্যই তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একত্রিত হতে হবে। ’
তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে এশিয়ার দেশগুলোর ভাগ্য পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এক অভিন্ন ভবিষ্যৎ এবং মিলিত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের অবশ্যই একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা রচনা করতে হবে। এই ফোরামে এশিয়াকে অবশ্যই চারটি মূল ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। ’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথমত, আর্থিক সহযোগিতা। এশিয়াকে অবশ্যই একটি টেকসই অর্থায়ন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। আঞ্চলিক এমডিবি এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোর এই প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। আমাদের নির্ভরযোগ্য তহবিল প্রয়োজন, যা আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে এবং আমাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করে। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য সহযোগিতা। এশিয়া সবচেয়ে কম সংহত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। এই দুর্বল একীভূতকরণ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। অবিলম্বে বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারে কাজ করতে হবে। তৃতীয়ত, খাদ্য ও কৃষি সহযোগিতা। আমাদের অবশ্যই সম্পদ-দক্ষ কৃষি প্রচার করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক টেকসই কৃষি সমাধান সম্প্রসারণ এবং পুনরুৎপাদনশীল ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে উদ্ভাবন মূল বিষয়। চতুর্থত, প্রযুক্তি সহযোগিতা। এশিয়াকে অবশ্যই একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে, যা পুনরুদ্ধারমূলক, বিতরণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত। আমাদের জ্ঞান, তথ্য বিনিময় করতে হবে এবং প্রযুক্তি ইনকিউবেশন ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করতে হবে। ডিজিটাল সমাধানে সহযোগিতা অগ্রগতিকে চালিত করবে। ’
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার (২৬ মার্চ) চারদিনের চীন সফরে গেছেন। প্রধান উপদেষ্টার এটাই প্রথম কোনো দেশে দ্বিপক্ষীয় সফর।
সম্পর্কিত বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: