10309

04/04/2025 মিশরে বৈষম্যের শিকার হিজাব পরা নারীরা

মিশরে বৈষম্যের শিকার হিজাব পরা নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ আগস্ট ২০২২ ২১:২৪

মিশরে যেসব নারীরা হিজাব পরেন, তারা নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এমন তথ্য উঠে এসেছে বিবিসি নিউজ অ্যারাবিকের একটি অনুসন্ধানে। এই প্রবণতা মিশরের সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল, যেখানে ধর্ম, লিঙ্গ, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান দেখে কোনরকম বৈষম্য করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মিশরের অনেক নারী ২০১৫ সাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করছেন যে, হিজাব পরার কারণে তারা এইরকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বিবিসি অ্যারাবিকের অনুসন্ধানের তথ্য অনুযাযী, হিজাব পরার কারণে মিশরের নারীরা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, এমন প্রবণতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হিজাব পরার কারণে তাদের অনেক স্থানে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

আইনজীবী এবং নারী অধিকার কর্মী নাদা নাশাত জানিয়েছেন, ''অনেক ক্ষেত্রে মূল কারণটি হলো, শ্রেণি বিভাজন করে ফেলা।''

''যেসব অনুষ্ঠানস্থলে হিজাবি নারীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি, তারা নিজেদের উচ্চ মধ্যবিত্ত বা উচ্চ বিত্ত হিসাবে উপস্থাপন করতে চায়। তবে হিজাব পরে না, এমন নিম্নবিত্ত নারীদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করতে দেখা গেছে।''

বেশিরভাগ কেন্দ্র থেকে অতিথিদের সামাজিক মাধ্যম প্রোফাইলের তথ্য চাওয়া হলে ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, মাথা ঢেকে কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

বিবিসি অ্যারাবিকের পক্ষ থেকে এক দম্পতিকে গোপনে এসব কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ওই নারী হিজাব পরেছিলেন।

যামালেক এলাকায় এল'অবারজিন নামে এক রেস্তোরাঁর রক্ষী ঢোকার মুখেই সাফ জানিয়ে দেন, মাথায় হিজাব পরে সেখানে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ ভেতরে একটি মদের দোকান রয়েছে, ফলে হিজাব পরা কোন নারীকে সেখানে যেতে দেয়া হয় না।

পরবর্তীতে এসব আলাপের রেকর্ডিং যখন তাদের শুনানো হয়, এল'অবারজিন দাবি করে, ''এটি পুরোপুরি সত্য না।'' এবং হিজাব পরা নারীদের প্রবেশ করতে না দেয়ার কোন নীতি তাদের প্রতিষ্ঠানের নেই। তবে তারা জানিয়েছে, ''তারা মাথা ঢেকে রাখাকে নিরুৎসাহিত করেন।''

প্রতিষ্ঠানটি বিবিসিকে জানান, ''তাদের প্রতিষ্ঠানের নীতি সম্পর্কে কর্মীদের ভালোভাবে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোন বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। কারণ এটাই তাদের প্রতিষ্ঠানের নীতি। ''

হেলিওপোলিসের একটি রেস্তোরাঁর ম্যানেজার এ বিষয়ে জানান, তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, তবে একটি কোনায় তাদের বসে থাকতে হবে। ''এটা পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা। তারা যদি বার এলাকায় কোন হিজাবি নারীকে দেখতে পায়, তাহলে তাদের জরিমানা করবে'।

তবে এই বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কাজান বা আন্দিয়ামো কর্তৃপক্ষ কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিবিসি অ্যারাবিক মিশরের পর্যটন ও রেস্তোরাঁ সমিতির চেয়ারম্যান আদেল আল মাসরির কাছে এসব তথ্য প্রমাণ দেখিয়েছিল ।

তিনি জানান,  ''পর্যটন মন্ত্রণালয়ে কোন সময়েই বোরকা বা হিজাব পরা নারীদের (অবকাশ কেন্দ্রে) প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো ধরনের বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য।" 

অনুসন্ধানে বিবিসি অ্যারাবিক আরও জানতে পেরেছে যে, হিজাব পরা নারীদের কাছে অবকাশকালীন অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে না সেদেশের একটি বড় আবাসন কোম্পানি লা ভিস্তা। কায়রো এবং উপকূলীয় বেশ কয়েকটি শহরে এই কোম্পানির প্রকল্প রয়েছে।

অতীতে যদিও তারা হিজাবি নারীদের কাছে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করেছে। কিন্তু বিবিসি দেখতে পেয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লা ভিস্তাকে তাদের নীতি বদলানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন, মিশরীয় সংসদ সদস্য আমিরা সাবের জানিয়েছেন, মিশরের সংবিধানে পরিষ্কার করে বলে দেয়া আছে, এরকম বৈষম্য কারও সাথে করা যাবে না।

''তারা পার্লামেন্টারি ক্ষমতা ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করবেন, কীভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা যায়। এরপরও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে অবশ্যই দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে,''। 

সূত্রঃ বিবিসি

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]