বস্ত্র মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ খাতকে সুসংহত ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ বস্ত্রশিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে। গ্রামীণ দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বস্ত্রখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২১’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২১’ উদযাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এবারের জাতীয় বস্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন–বাংলাদেশের উন্নয়ন’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথাযথ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, বস্ত্রখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পোশাকখাতের অগ্রগতিকে টেকসই করতে ‘বস্ত্র নীতি ২০১৭’ ‘বস্ত্র আইন ২০১৮’ এবং ‘বস্ত্রশিল্প (নিবন্ধন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস কেন্দ্র) বিধিমালা ২০২১’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বস্ত্রশিল্পের ক্রমাগত উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে ‘পোষক কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে বস্ত্র অধিদপ্তর বস্ত্রশিল্প ও বায়িং হাউজের উদ্যোক্তাদের নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি বস্ত্রখাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে আটটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ১০টি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ৪১টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময়। ঢাকাই মসলিন ও জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁত, কুমিল্লার খাদি, রাজশাহীর সিল্ক এবং মিরপুরের বেনারসি শিল্প আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে–এ প্রত্যাশা করি। আমি ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২১’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।