রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের শাহআলী মার্কেটে একটি নামী মোবাইল ব্র্যান্ড শপের সামনে এক ক্রেতা বাজেটের মধ্যে পছন্দের মোবাইল ফোন কিনতে না পারায় তাকে বেশ অস্থির দেখাচ্ছিল। তিনি বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মোবাইল ফোনের দাম আরও বেড়ে যাবে।
মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো বিক্রি কমে গেছে। বেশির ভাগ ক্রেতা দাম শুনে চলে যান। যাদের খুব প্রয়োজন তারা কিনছেন।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহিদ বলেন, মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ২০ শতাংশ দাম বেড়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে মোবাইল ফোনের দাম ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যাবে। এবারের বাজেটে মোবাইল ফোনের ওপর ৩ স্তরের ভ্যাটের (ব্যবসা পর্যায়ে) ফলে ১৫ শতাংশ (৫+৫+৫) দাম এমনিতেই বেড়েছে। ডলারের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী চিপ সংকটের কারণে মোবাইল ফোনের দামে প্রভাব পড়েছে। ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কিছু দিনের মধ্যে সেটের দামও বেড়ে যাবে। তিনি তার নিজের মোবাইল ব্র্যান্ড নিয়ে বলেন, সিম্ফনির কয়েকটি সেটে এরই মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি দাম বেড়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও নতুন সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি জানান।
এদিকে কিছু কিছু মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড এরইমধ্যে দাম কমিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মটোরোলা মোবাইল ফোন। দারাজে চলছে মটোরোলার সুপার উইক। এখানে মটোরোলার ৫টি মডেলের ফোন ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে।
দেশে হার্ডওয়্যার পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। যাদের পুরনো স্টক রয়েছে তারা আগের দামের সঙ্গে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে ২-৩ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। যারা এই সময়ে পণ্য আমদানি করে বিক্রি করছে তারা এরই মধ্যে ৩৫-৪০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে । বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, বাজারে বাজে অবস্থা বিরাজমান। অবস্থা এমন হয়েছে যে— কয়েকদিনের মধ্যে ৬০ হাজার টাকার নিচে কোনও ল্যাপটপ পাওয়া যাবে না। যা আগে পাওয়া যেত ৪০-৪৫ হাজার টাকায়। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে ১০০ শতাংশ মার্জিন দিতে হচ্ছে। এর কমে তারা খুলতে দিচ্ছে না। এমনিতেই এবারের বাজেটে ল্যাপটপ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এদিকে ডলারের লাগামহীন দাম বাড়ার কারণে ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও প্রসেসরের দাম বেড়েছে। শিগগিরই তা ৩৫-৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। হার্ডওয়্যার পণ্যের বাজারে বিক্রি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।