ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ই আশ্বিন ১৪২৭


‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শেষ হবে কবে?


প্রকাশিত:
১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৭:৩৫

আপডেট:
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৬:০০

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পুরো বিশ্ব। এরই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এক ভাষণে সে সময়কার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জানিয়ে দেন যে, ‘আমাদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আল কায়েদাকে দিয়ে শুরু। কিন্তু তা এখানেই শেষ হবে না।’

বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেই চলেছে ঘটনা। কখনও চাকু দিয়ে আক্রমণ। কখনও গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যা। এসব ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ২০০১ সালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তার পরিণতি কি হয়েছে অনেকে তা জানতে আগ্রহী হতে পারেন। এ যুদ্ধ কি এখনও চলছে? যদি সে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে থাকে তবে তা বিজয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে, নাকি অর্থের বিশাল অপচয় ঘটেছে সে ব্যাপারেও প্রশ্ন আছে।

১৯ বছর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকা আক্রান্ত হবার দিন থেকে হাজার হাজার মার্কিন নারী-পুরুষ সেনা কর্মকর্তা আফগানিস্তান, ইরাক, উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ এবং হর্ন অব আফ্রিকার সেনানিবাসগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে আক্রমন চালিয়ে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে; চলমান হুমকির অসংখ্য ঘটনা মোকাবেলায় দুনিয়াজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বাজেট আকাশছোঁয়া অনুপাতে বড় হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের প্রধান নির্বাহী শাশা হ্যাভলিকলেক এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তার উপর নজর রেখেছেন। তার মতে বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার মুহুর্তেই এ সংক্রান্ত বাকবিতন্ডা শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বাস্তবে তার সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেয়ে তা আরও অনেক বেশি ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকে। এটা সবারই জানা যে, ওবামা প্রশাসনের অধীনে তারা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। ব্যাপকভাবে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, এ ধরণের হামলা কমে আসছে। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কর্মকান্ড অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছিল।’

এ বক্তব্যকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিযুক্ত ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সমন্বয়ক রাষ্ট্রদূত নাথান সেলস। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, বুশ প্রশাসনের আমলে নেয়া সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধ কি শেষ হয়েছে? ‘না, এ যুদ্ধ বেশ ভালভাবেই চলছে। আমরা এ যুদ্ধে জিতেই চলেছি। কিন্তু আমরা একটি সুনির্দিষ্ট শত্রুর বিরুদ্ধে বা বলা উচিত যে, শত্রুদের একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লড়াই করছি।’

উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান যে, ইসলামিক স্টেট-আইএস যেখানে ব্যাপক বিস্তৃত ছিল সিরিয়ার সেই বাঘুজ থেকে এসব জিহাদিদের শেষ যোদ্ধাকে এবং তাদের খলিফা আবু বকর আল বাগদাদীকে নির্মূল করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আইএস সংশ্লিষ্টরা এবং তাদের নেটওয়ার্ক বিশ^জুড়ে এখনও বেশ সক্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর আক্রমনের পর এর ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনে অনেকের স্পষ্ট ধারণা ছিল। সে সময় ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট বুশ জানিয়ে দেন যে, ‘হয় আপনি আমাদের সাথে নয়ত আমাদের বিরুদ্ধে।’ মাঝামাঝি কোন জায়গা ছিল না। চিরকালের জন্য বদলে যাওয়া জোট ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিশেষ কোন অনুমতি ছিল না। এ অনড় অবস্থানের কারনে ইরাকে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের চালানো অভিযানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা শত্রুতে পরিণত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান জিহাদি আন্দোলনের সূচনা করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্য ন্যাশনাল পত্রিকার সম্পাদক মিনা আল-ওরাবি। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলে জন্ম নেয়া ওরাবি’র এলাকা আইএস বিরোধী যুদ্ধের সময় বিধ্বস্ত হয়। ‘ইরাকে,’ তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট উদাহরণ ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি রাষ্ট্রকে অবমূল্যায়ন করছে। ২০০৩ সালে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত হাজার হাজার তরুণকে বেকার করে দেয়। ভাবটা এ রকম যে, তারা যেন পুরোপুরিভাবে দেশের বাইরের কেউ। এরাই ইরাকে প্রথমে আল কায়েদার নিউক্লিয়াস ও পরে আইএসের নিউক্লিয়াস হয়ে উঠে।’

প্রেসিডেন্ট ওবামা পরে বদলে দিলেও এ যুুদ্ধের অংশ হিসাবে যেসব ভুল নীতি নেয়া হয়েছে তার ফলাফল এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। শত শত সন্দেহভাজনকে বিনা বিচারে গুয়ান্তানামো কারাগারে আটকে রাখা, তাদের উপর ‘অস্বাভাবিক নির্যাতন’ চালানো- সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের চোখ বেঁধে বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় থাকা সিআইএ’র ‘ব্লাক সাইট’ গুলোতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে তাদের দীর্ঘ ও ‘বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ’-এর লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।

পশ্চিমাদের নৈতিক কর্তৃত্বকে খাটো করে দেখাতে তাদের সমালোচকরা এসব যুক্তি তুলে ধরেন বলে বলা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাষ্ট্রদূত সেলস বলেন যে, ‘কোন পদ্ধতি কাজ করে আর কোন পদ্ধতি কাজ করে না সে বিষয়ে বিশ্ববাসী প্রচুর শিক্ষা পেয়েছে এবং সে শিক্ষাকে আমাদের বর্তমান প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হচ্ছে।’

তিনি ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্রসহ গুয়ান্তানামো বে কারাগারের সমালোচকদের ব্যাপারে বিরক্ত। এসব মিত্ররা তাদের যেসব পরিত্যক্ত নাগরিকদের সিরিয়া এবং ইরাকের দূরবর্তী নির্জন শিবিরে আটকে রেখেছে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলেন তিনি।
‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করতে যেয়ে মোট কত খরচ হয়েছে তা সঠিকভাবে বলাটা অসম্ভব। তবে অনুমান করা হয় যে, এর পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। এ অর্থের বেশিরভাগ খরচ হয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন আক্রমন পরিচালনায়। সাধারণ মানুষকে চরমপন্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে এ অর্থের খুব সামান্য অংশই খরচ হয়েছে। লন্ডনের কিংস কলেজের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব র‌্যাডিকালাইজেশন-এর শিরাজ মাহের বিশ্বাস করেন যে, এ যুদ্ধ আজকের সমাজে অন্যান্য সমস্যা ছড়াতে সাহায্য করেছে।

‘আপনি যদি বৃহত্তর ইসলামিক স্টেট এবং সিরিয়া ও ইরাক বা এ ধরণের বিষয়গুলো দেখেন তবে,’ তিনি বলছিলেন, ‘তা ইউরোপে এক ধরণের আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং তা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক ধরণের সন্দেহ ও শত্রুতায় ইন্ধন যুগিয়েছে। তাই সিরিয়া পরিস্থিতির কারণে যে অভিবাসী ও শরনার্থী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতি ইউরোপবাসীর বিরোধী মনোভাবে তা ফুটে উঠেছে। সুতরাং আপনি একটি ধারাবাহিক অবনতিশীল পরিণতি দেখতে পাবেন। তাই আমার মনে হয় এটা বলা ভাল যে, অনেক দিক দিয়েই ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শেষ হওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

তাহলে কি আকারবিহীন শত্রুর বিরুদ্ধে এ অভিযান কোনোদিন শেষ হবে? এমন কি কোন সিদ্ধান্তকারী মুহুর্ত আসবে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ বলে ঘোষণা করা হবে? সে সম্ভাবনা কম। কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, অপরাধ বা সন্ত্রাসকে কমিয়ে এনে শুধুমাত্র ‘শাসনযোগ্য স্তরে’ রাখা যায়। আর আজকের দিনে এসে চরম ডানপন্থীদের মাধ্যমে এক নতুন হুমকির উদয় হচ্ছে, আর এ হুমকি অশেষ কাল ধরে চলা যুদ্ধে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করবে।

‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ : শেষ কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পুরো বিশ্ব। এরই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ২০০১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এক ভাষণে সে সময়কার প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে জানিয়ে দেন যে, ‘আমাদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আল কায়েদাকে দিয়ে শুরু। কিন্তু তা এখানেই শেষ হবে না।’

বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেই চলেছে ঘটনা। কখনও চাকু দিয়ে আক্রমণ। কখনও গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ হত্যা। এসব ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ২০০১ সালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তার পরিণতি কি হয়েছে অনেকে তা জানতে আগ্রহী হতে পারেন। এ যুদ্ধ কি এখনও চলছে? যদি সে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে থাকে তবে তা বিজয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে, নাকি অর্থের বিশাল অপচয় ঘটেছে সে ব্যাপারেও প্রশ্ন আছে।

১৯ বছর আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকা আক্রান্ত হবার দিন থেকে হাজার হাজার মার্কিন নারী-পুরুষ সেনা কর্মকর্তা আফগানিস্তান, ইরাক, উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ এবং হর্ন অব আফ্রিকার সেনানিবাসগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে আক্রমন চালিয়ে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে; চলমান হুমকির অসংখ্য ঘটনা মোকাবেলায় দুনিয়াজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বাজেট আকাশছোঁয়া অনুপাতে বড় হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের প্রধান নির্বাহী শাশা হ্যাভলিকলেক এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তার উপর নজর রেখেছেন। তার মতে বক্তব্য ও বাস্তবতার মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার মুহুর্তেই এ সংক্রান্ত বাকবিতন্ডা শেষ হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বাস্তবে তার সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেয়ে তা আরও অনেক বেশি ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকে। এটা সবারই জানা যে, ওবামা প্রশাসনের অধীনে তারা আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। ব্যাপকভাবে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, এ ধরণের হামলা কমে আসছে। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কর্মকান্ড অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছিল।’

এ বক্তব্যকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিযুক্ত ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী সমন্বয়ক রাষ্ট্রদূত নাথান সেলস। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, বুশ প্রশাসনের আমলে নেয়া সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধ কি শেষ হয়েছে? ‘না, এ যুদ্ধ বেশ ভালভাবেই চলছে। আমরা এ যুদ্ধে জিতেই চলেছি। কিন্তু আমরা একটি সুনির্দিষ্ট শত্রুর বিরুদ্ধে বা বলা উচিত যে, শত্রুদের একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লড়াই করছি।’

উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান যে, ইসলামিক স্টেট-আইএস যেখানে ব্যাপক বিস্তৃত ছিল সিরিয়ার সেই বাঘুজ থেকে এসব জিহাদিদের শেষ যোদ্ধাকে এবং তাদের খলিফা আবু বকর আল বাগদাদীকে নির্মূল করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আইএস সংশ্লিষ্টরা এবং তাদের নেটওয়ার্ক বিশ্বজুড়ে এখনও বেশ সক্রিয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর আক্রমনের পর এর ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনে অনেকের স্পষ্ট ধারণা ছিল। সে সময় ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট বুশ জানিয়ে দেন যে, ‘হয় আপনি আমাদের সাথে নয়ত আমাদের বিরুদ্ধে।’ মাঝামাঝি কোন জায়গা ছিল না। চিরকালের জন্য বদলে যাওয়া জোট ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিশেষ কোন অনুমতি ছিল না। এ অনড় অবস্থানের কারনে ইরাকে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের চালানো অভিযানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা শত্রুতে পরিণত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান জিহাদি আন্দোলনের সূচনা করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্য ন্যাশনাল পত্রিকার সম্পাদক মিনা আল-ওরাবি। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলে জন্ম নেয়া ওরাবি’র এলাকা আইএস বিরোধী যুদ্ধের সময় বিধ্বস্ত হয়। ‘ইরাকে,’ তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট উদাহরণ ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি রাষ্ট্রকে অবমূল্যায়ন করছে। ২০০৩ সালে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত হাজার হাজার তরুণকে বেকার করে দেয়। ভাবটা এ রকম যে, তারা যেন পুরোপুরিভাবে দেশের বাইরের কেউ। এরাই ইরাকে প্রথমে আল কায়েদার নিউক্লিয়াস ও পরে আইএসের নিউক্লিয়াস হয়ে উঠে।’

প্রেসিডেন্ট ওবামা পরে বদলে দিলেও এ যুুদ্ধের অংশ হিসাবে যেসব ভুল নীতি নেয়া হয়েছে তার ফলাফল এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। শত শত সন্দেহভাজনকে বিনা বিচারে গুয়ান্তানামো কারাগারে আটকে রাখা, তাদের উপর ‘অস্বাভাবিক নির্যাতন’ চালানো- সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের চোখ বেঁধে বিমানে করে বিশে্বর বিভিন্ন জায়গায় থাকা সিআইএ’র ‘ব্লাক সাইট’ গুলোতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে তাদের দীর্ঘ ও ‘বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ’-এর লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়।

পশ্চিমাদের নৈতিক কর্তৃত্বকে খাটো করে দেখাতে তাদের সমালোচকরা এসব যুক্তি তুলে ধরেন বলে বলা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাষ্ট্রদূত সেলস বলেন যে, ‘কোন পদ্ধতি কাজ করে আর কোন পদ্ধতি কাজ করে না সে বিষয়ে বিশ^বাসী প্রচুর শিক্ষা পেয়েছে এবং সে শিক্ষাকে আমাদের বর্তমান প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হচ্ছে।’

তিনি ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্রসহ গুয়ান্তানামো বে কারাগারের সমালোচকদের ব্যাপারে বিরক্ত। এসব মিত্ররা তাদের যেসব পরিত্যক্ত নাগরিকদের সিরিয়া এবং ইরাকের দূরবর্তী নির্জন শিবিরে আটকে রেখেছে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলেন তিনি।
‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করতে যেয়ে মোট কত খরচ হয়েছে তা সঠিকভাবে বলাটা অসম্ভব। তবে অনুমান করা হয় যে, এর পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশ খানিকটা বেশি। এ অর্থের বেশিরভাগ খরচ হয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন আক্রমন পরিচালনায়। সাধারণ মানুষকে চরমপন্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে এ অর্থের খুব সামান্য অংশই খরচ হয়েছে। লন্ডনের কিংস কলেজের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব র‌্যাডিকালাইজেশন-এর শিরাজ মাহের বিশ্বাস করেন যে, এ যুদ্ধ আজকের সমাজে অন্যান্য সমস্যা ছড়াতে সাহায্য করেছে।

‘আপনি যদি বৃহত্তর ইসলামিক স্টেট এবং সিরিয়া ও ইরাক বা এ ধরণের বিষয়গুলো দেখেন তবে,’ তিনি বলছিলেন, ‘তা ইউরোপে এক ধরণের আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং তা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক ধরণের সন্দেহ ও শত্রুতায় ইন্ধন যুগিয়েছে। তাই সিরিয়া পরিস্থিতির কারণে যে অভিবাসী ও শরনার্থী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতি ইউরোপবাসীর বিরোধী মনোভাবে তা ফুটে উঠেছে। সুতরাং আপনি একটি ধারাবাহিক অবনতিশীল পরিণতি দেখতে পাবেন। তাই আমার মনে হয় এটা বলা ভাল যে, অনেক দিক দিয়েই ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শেষ হওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

তাহলে কি আকারবিহীন শত্রুর বিরুদ্ধে এ অভিযান কোনোদিন শেষ হবে? এমন কি কোন সিদ্ধান্তকারী মুহুর্ত আসবে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ বলে ঘোষণা করা হবে? সে সম্ভাবনা কম। কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, অপরাধ বা সন্ত্রাসকে কমিয়ে এনে শুধুমাত্র ‘শাসনযোগ্য স্তরে’ রাখা যায়। আর আজকের দিনে এসে চরম ডানপন্থীদের মাধ্যমে এক নতুন হুমকির উদয় হচ্ছে, আর এ হুমকি অশেষ কাল ধরে চলা যুদ্ধে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করবে।

আবু তাহির মুস্তাকিম
গণমাধ্যম কর্মী
[email protected]



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top