সোমবার, ১৩ই এপ্রিল ২০২৬, ৩০শে চৈত্র ১৪৩২
সীসা বারের মালিক জেভিকো কোম্পানীর মালিকের ছেলে ইরফান আলম নাবিল ও অপর মাদক ব্যবসায়ী নাফিজ আলম
রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি অবৈধ সিসা লাউঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনের নবম তলায় অবস্থিত “দ্য আনতালিয়া” নামের সিসা বারে শনিবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ভেতরে লুকানো অবস্থায় প্রায় ১০০ বোতল মদ, ২০ টির বেশি সিসা সেবনের যন্ত্র (স্টেন্ট) এবং মাদক গ্রহণে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সীসা বারটির মালিক জেভিকো কোম্পানীর ইরফান আলম নাবিল। ইলেক্ট্রিক পণ্যের ব্যবসার আড়ালে নাবিল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা করে আসছিলো। অপর মাদক ব্যবসায়ী নাফিজ আলমের সহযোগিতায় আনতালিয়া সীসা বারটিতে নিয়মিতভাবে মাদক সেবন ও লেনদেনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্ট চারজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বনানী ও গুলশান এলাকার আরও কিছু স্থানে অনুমোদনবিহীন সিসা লাউঞ্জ গোপনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নজরদারি বাড়ানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ গুলশান-বনানী এলাকায় অবৈধ সিসা লাউঞ্জ ও মাদক কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অবৈধ সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)