রবিবার, ১২ই এপ্রিল ২০২৬, ২৯শে চৈত্র ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদেশে কর্মী যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ার শঙ্কা দেখছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ শঙ্কার কথা বলেন মন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের গার্মেন্টসের রপ্তানি আর রেমিটেন্সের টাকা এই দুটোই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস। গার্মেন্টস কিসের উপরে দাঁড়িয়ে আছে আমরা সবাই বুঝি। আমাদের এই স্বল্প দক্ষ, স্বল্পশিক্ষিত বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর যে বেকারত্ব; এর কারণেই আমরা অন্যদের থেকে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে কম মজুরিতে উৎপাদন করতে পারছি।
তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি বিনিয়োগকারীরা মনে করেন বেশি দাম দিয়ে চীন ভিয়েতনাম থেকে কিনবেন। তাহলে কিন্তু আমরা যে ৪০ বিলিয়ন ইনকাম করি সেটা দ্রুতই কমে আসবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চীন ও ভিয়েতনামের সঙ্গে আমরা টিকে আছি এ সেক্টরে এ কারণেই। কিন্তু এটা বেশি বছর থাকবে না। আগামী ২০৪০-৪৫ সালের পর থেকে এই ডেমোগ্রাফিক্যাল ডিভিডেন্ড ফুরিয়ে যাবে। এটা থাকতে থাকতেই এটাকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আবার মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, লোকবল রিক্রুট বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমরা খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে পারি। ইতমধ্যে মোহাম্মদ বিন সালমান (সৌদির প্রিন্স) একটা পরিস্থিতি থেকে বলছেন যত কম সংখ্যক লোক বাইরে থেকে নেয়া যায়। আমাদের বৈদেশিক ক্ষমতার উৎস কিন্তু দুটোই খুব টালমাটাল।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই তিনটা জায়গা মূলত আমাদের মনোযোগের লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত। বিদেশ থেকে ইনভেস্ট আনব, বিদেশে আমি দক্ষ জনবল পাঠব ও রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বাড়াবো।
তিনি বলেন, আমরা জিওপলিটিক্যালি এমন কোনো পজিশনে নাই, যেখানে আমরা অন্য কোন এজেন্ডা কাজে লাগাতে পারি। মূল কথাটা হচ্ছে, ভাসা ভাসা ধারণার মধ্যে না থেকে সুনির্দিষ্টভাবে সরকারকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। প্রচলিত উৎসের মধ্যেই আমরা আটকে আছি। একজন পত্রিকা পাঠক হিসেবে আমি খেয়াল করেছি, নতুন কোনো উৎস বের করার জন্য তেমন কোন মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)