ঢাকা বুধবার, ২৩শে জুন ২০২১, ৯ই আষাঢ় ১৪২৮


জিনের সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা করা কি জায়েজ


প্রকাশিত:
৩ জুন ২০২১ ১৫:৩৭

আপডেট:
২৩ জুন ২০২১ ১০:৪০

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: জিনদের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করা ইসলামসম্মত কি না?

উত্তর: জিন জাতি আল্লাহর বিস্ময়কর ও রহস্যঘেরা সৃষ্টি। কোরআনের শতাধিক আয়াতে জিন শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। মানুষের মতো তারাও আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের জন্য আদিষ্ট।

মানবজাতির মতো জিন জাতিও আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের ব্যাপারে আদিষ্ট। সুতরাং পরকালে তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং অবাধ্যতার জন্য শাস্তির মুখোমুখি হবে—এ ব্যাপারে প্রাজ্ঞ ইসলামী ব্যক্তিত্বরা একমত।

পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে বলা হয়েছে, অবিশ্বাসী ও অবাধ্য জিনরা মানুষের মতো শাস্তি ভোগ করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয়ের মাধ্যমে জাহান্নামকে পূর্ণ করব।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৯)

কোনো বৈধ কাজে অথবা কোনো উপকারি কাজে কেউ যদি জিনের সাহায্য নিতে পারেন, তাহলে সেটি জায়েজ আছে। জিনের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া হারাম— এই কথাটি শুদ্ধ নয়। কারণ, নবী সুলাইমান (আ.) মসজিদ নির্মাণের কাজে তিনি জিনদের সহযোগিতা নিয়েছেন।

সুতরাং জিনের সাহায্য নেওয়া জায়েজ। তবে সেটা অবশ্যই বৈধ হতে হবে। এটার সব প্রক্রিয়াই বৈধ হতে হবে। কিন্তু জিনদের বশ করে বিভিন্ন হারাম কাজ করা হলে, সেটি অত্যন্ত গোনাহের কাজ।

তাই অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ। কাজ ভালো হলে বৈধ। আর যদি অবৈধ কাজ হয় তাহলে অবশ্য জায়েজ নেই।

মহানবী (সা.) বলেছেন, তিন ধরনের জিন রয়েছে। একদল যারা সর্বদা আকাশে উড়ে বেড়ায়। আরেক দল যারা সাপ ও কুকুরের আকার ধারণ করে থাকে। তৃতীয় দল পৃথিবীবাসী, যারা কোনো এক স্থানে বাস করে বা ঘুরে বেড়ায়। (বায়হাকি ও তাবরানি)।

কাজী আবু আয়ালা (রহ.) বলেছেন, জিন মানুষের মতো খাওয়া-দাওয়া করে। এরা চিবিয়ে ও গিলে খায়। অনেক সময় মানুষের সঙ্গে বসে খায়। ভালো জিনরা মানুষের উপকার করে থাকে।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দুটি জিনিস অর্থাৎ হাড়-গোবর দিয়ে ইস্তেনজা করো না। কেননা, ওগুলো তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য।’ (তিরমিজি শরিফ)।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top