চিড়িয়াখানায় ফুটবল খেলছে হাতি (ভিডিও)
প্রকাশিত:
২৪ মে ২০২১ ২৩:৩৫
আপডেট:
৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৭:২৯

করোনায় জাতীয় চিড়িয়াখানা বন্ধ। পদচারণা নেই দর্শনার্থীদের, কোলাহলমুক্ত এই নিরিবিলি পরিবেশটি হেলায় হাত ছাড়া করতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ। উন্নত দেশের আদলে ফুটবলের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে চিড়িয়াখানার হাতিগুলোকে। কসরত শিখে ফেললে হাতির পায়ে ফুটবল খেলার বাড়তি বিনোদন পাবেন দর্শনার্থীরা। এমনটাই প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের। এদিকে, অনুকূল পরিবেশ আর পর্যাপ্ত খাবার পেয়ে বেশ ফুর ফুরে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা। বংশও বৃদ্ধি করছে তারা।
পায়ের কাছে বল পেলেই গোল পোস্টে কিক করছে হাতি। বিদেশ নয়, এমন দৃশ্য মিলছে আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানাতেই। রাজা বাহাদুর এবং সুন্দরী নামের দুটি হাতি প্রতিদিনই খেলছে ফুটবল। খেলার নানা কায়দা-কৌশল রপ্ত করতেও রীতিমত ব্যস্ত তারা।
শুধু ফুটবল নয়, বাস্কেট বলও খেলানো হবে তাদের। এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শারীরিক কসরতও করতে হয় হাতিদের। আর এতে এরা বেশি সুস্থ্য থাকবে বলে জানান চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা।
বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানার প্রাণীরা নানা রকম খেলা ও কসরত দেখিয়ে দর্শনার্থীদের মন জয় করে থাকে। তাই দেশের চিড়িয়াখানাতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক আব্দুল লতিফ বলেন, মানুষ তো রাস্তাঘাটে হাতি দেখে, সেখানে হাতি দেখে এখানে টিকিট করে হাতি দেখে চলে যাবে। তো পার্থক্যটা কোথায় থাকবে? আমি বিগত তিন মাস যাবত এটাকে প্রশিক্ষণে নিয়ে এসেছি। এখন তারা ফুটবল খেলা ৭০ ভাগ শিখতে পেরেছে। এরপরে চেষ্টা করবো এদেরকে কিভাবে বাস্কেট বল খেলা শেখানো যায়।
এদিকে, করোনার এই দীর্ঘ ছুটিতে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সাথে সখ্যতা বেড়েছে কেয়ারটেকারদের। জলহস্তিদের কাছে ডেকে খাবার খাওয়ান তারা। আলাদা আলাদ নামে ডাকলেও সাড়া দেয় তারা।
কেয়ারটেকার জানান, গত করোনার মধ্যে দুটি বাচ্চা দিয়েছিল, এবার করোনার মধ্যে একটি বাচ্চা পেয়েছি। আরেকটা বাচ্চা সামনে দিবে।
তিনটি থেকে এখন আটটিতে জিরাফের সংখ্যা। বিশাল উচ্চতার এই প্রাণীটিকেও আদরে আগলে রেখেছেন এদের কেয়ারটেকার। কাছে পেলেই করে বসে বায়না, আরও খাবার চাই।
চিড়িয়াখানার প্রায় সব প্রাণীই এখন কোলাহলমুক্ত সময় পার করছে। ইতিমধ্যে নতুন নতুন অতিথি এসেছে বিভিন্ন প্রাণীর ঘরে। আরও আসবে বলেও জানালেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তাই প্রাণীরা পাচ্ছে খানিকটা বাড়তি যত্ন।
চিড়িয়াখানার প্রতিটি প্রাণীকে যথাযথ পরিবেশে রাখতে নেয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা। সরিয়ে নেয়া হবে বাঘ, সিংহ-সহ বিদেশী প্রাণীদের। আবাসস্থল হবে বড়, থাকবে পর্যাপ্ত প্রজনন ব্যবস্থা।
ভিডিও-
সম্পর্কিত বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: