শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৬, ১১ই বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি: সময় নিউজ
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কক্সদবাজারে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা,আইন অমান্য করে ইসিই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা, প্লাস্টিক দূষণ, নবায়নযোগ্য ব্যবহার বাড়ানোসহ একাধিক দাবী বাস্তবায়নে বক্তারা যথার্থতা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় শহরের কলাতলী বিচ পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, জেলে প্রতিনিধি, আইনজীবী, শিক্ষক, এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন ধরা কক্সবাজার শাখার আহবায়ক ফজলুল কাদের চৌধুরী, প্রধান বক্তা কক্সবাজার জেলা ধরার যুগ্ম আহবায়ক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন।
শামসুল আলম শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট গৌতম দে, জেলা জেলে শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা, সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান বাহদুর, অংশীদার যুবসংঘের সভাপতি রমজান আলী সিকদার, সদর উপজেলার আহ্বায়ক এম. হাসান,কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ , প্রভাষক ও সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দীন, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রাজ্জাক, রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও পরিবেশ যোদ্ধা আয়াছ রবি,জেলা জেলে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, রফিক সিরাজী, মোঃ ইউচুপ, এসএম রানা,দিদারুল ইসলাম দিদার, হেলাল উদ্দীন, মোঃ ইউচুপ ও রাসেল তালুকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ রক্ষায় নানা স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ধরিত্রী দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার অঙ্গীকার। নির্বিচারে প্লাস্টিক ব্যবহার, বন উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে পৃথিবী আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) জোনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং এসব অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তাই এসব অঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।বক্তারা আরো বলেন, ৫০ লাখ লোকের ভারে কক্সবাজার ভারাক্রান্ত। এই কক্সবাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ, নবায়নযোগ্য জালানির ব্যবহার বাড়ানো বিশেষ করে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের অবারিত ১২০ কিলোমিটার সংরক্ষিত ইসিএ এলাকা বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এনে এবং পরিবেশ বান্ধব পর্যটন নগরী গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা শেষে পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সকলে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)