শনিবার, ২৫শে এপ্রিল ২০২৬, ১২ই বৈশাখ ১৪৩৩


তীব্র গরমে আইস্ক্রিম ও ঠান্ডা পানীয় – সাময়িক স্বস্তি, দীর্ঘস্থায়ী বিপদ

ফাহিমা হোসেন মুনা

প্রকাশিত:২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০

ছবি: সময় নিউজ

ছবি: সময় নিউজ

দীর্ঘ কিছুদিন যাবৎ সারাদেশে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। বাইরে বের হলেই মনে হয় যেন ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছি। একটু আরাম পেতে দোকান থেকে জুস, কোল্ড ড্রিংক্স, ট্যাং, আইসক্রিম কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু কিছুক্ষণের এই স্বস্তিকর অনুভূতির জন্য শরীরের কতটা ক্ষতি হচ্ছে তা কি জানেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, তীব্র গরমে শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ঘাম ঝরায় এবং রক্তনালি প্রসারিত হয়। এই সময়ে হঠাৎ বরফঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম খেলে শরীরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। গলা ও পেটের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে রক্তনালি সংকুচিত হয়- যা মাথাব্যথা, বমিভাব এমনকি হজমের সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

প্যাকেটকাত পানীয় ও ট্যাং এর আসল রূপ

বাজারে প্রচলিত ট্যাং, ফ্রুটিকা, স্টার শিপ বা অন্যান্য প্যাকেটজাত পানীয়গুলোর মধ্যে মূলত ক্ষতিকর উপাদান যেমন, সোডিয়াম বেনজয়েট (E211), কৃত্রিম রং ও ফ্লেভার, অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি, ফসফরিক অ্যাসিড, ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন পাওয়া যায়। যা ৬টি বিপদজনক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।

ব্রেন ফ্রিজ ও মাথাব্যথা

হঠাৎ ঠান্ডা আইসক্রিম খেলে মুখের ছাদে (palate) থাকা রক্তনালি সংকুচিত হয়, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে যার জন্যে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়।

রক্তে শর্করার বিপদ

এক ক্যান কোল্ড ড্রিংকসে ৩৯ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকে। এটি রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে।

পানিশূন্যতা বাড়ায়

অনেকে মনে করেন কোল্ড ড্রিংক পানির বিকল্প। বাস্তবে এর ক্যাফেইন ও চিনি শরীর থেকে আরও পানি বের করে দেয়।

হজমের সমস্যা

গরমে পাকস্থলী ইতোমধ্যে চাপে থাকে। ঠান্ডা পানীয় পাচকরস পাতলা করে দেয় — ফলে বদহজম, গ্যাস ও পেটব্যথা হয়।

দাঁতের ক্ষয় ও শিরশিরানি

কোল্ড ড্রিংকসের অ্যাসিড এবং চিনি একসঙ্গে দাঁতের এনামেল গলিয়ে দেয়। গরমে ঘন ঘন খেলে এই ক্ষতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

টনসিল ও গলাব্যথা

শরীর গরম থাকা অবস্থায় ঠান্ডা পানীয় টনসিলে প্রদাহ তৈরি করে। বারবার করলে দীর্ঘস্থায়ী টনসিলাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তাহলে কি খাবেন এই গরমে

ডাবের পানি, তোকমা দানার সরবত, লেবু ও পুদিনার সরবত, ঘরে তৈরি লাচ্ছি, শসা ও তরমুজ।

এই প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের কিছু পরামর্শ:

- ঘন ঘন পানি পান করুন।
- গরম থেকে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি পান করবেন না।
- অন্তত ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে তারপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন।

গরমে শরীরকে সত্যিকার অর্থে ঠান্ডা রাখতে চাইলে বাইরের প্যাকেটজাত পানীয়ের বদলে ঘরে তৈরি শরবত বা ডাবের পানি পান করুন। হালকা রঙের সুতি পোশাক পরুন, রোদ এড়িয়ে চলুন এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মনে রাখবেন, গরমে বরফঠান্ডা পানীয় কিছুক্ষণের আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে দেয়।

লেখক: ফাহিমা হোসেন মুনা। গবেষণা দলের প্রধান, BESS; প্রতিষ্ঠাতা ও কন্টেন্ট রাইটার, Antioxidant Pathways।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়