বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩২


ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকাকে সঙ্গে নিয়ে ‘হেক্সাগন’ জোট করতে চান নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট ‘হেক্সাগন’ গঠন করতে চান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই জোটে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চান তিনি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফলেই ‘হেক্সাগন’ জোট গঠনের ব্যাপারে মোদি-নেতানিয়াহুর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কী এই হেক্সাগন পরিকল্পনা

ইংরেজি শব্দ হেক্সাগনের বাংলা প্রতিশব্দ ‘ষড়ভুজ’। গণিত শাস্ত্রে ‘ত্রিভুজ’, ‘চতুর্ভুজ’-এর মতো ‘ষড়ভুজ’ ও একটি জ্যামিতিক ধারণা। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এমন একটি জোট গঠন করতে চাইছেন, যার ফলশ্রুতিতে এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলের অবস্থান আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম এ বিষয়টি মনোযোগের কেন্দ্রে আনেন নেতানিয়াহু। বৈঠকে ভারতকে ‘বৈশ্বিক শক্তি’ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের ‘ব্যক্তিগত বন্ধু’ উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, “আমরা একটা সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলব— আর এটি সম্ভব হবে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে কিংবা বা এ অঞ্চলের মধ্যে একটি ষড়ভুজ জোট গঠনের মাধ্যমে। ভারত এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হবে। এ ছাড়াও এই জোটে থাকবে আমাদের আরব, আফ্রিকার মিত্ররা, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দুই মিত্র দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাস এবং এশিয়ার আরও কয়েকটি রাষ্ট্র। এটি হবে এমন একটি ঐক্যাবস্থা— যার শক্তিতে আমরা মৌলবাদী শিয়া এবং কট্টরপন্থি সুন্নি— উভয় পক্ষের চোখে চোখ রাখতে পারব, তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারব এবং পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারব।”

“আমি এ ব্যাপারে এখনই আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাইছি না। উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি পুরো ব্যাপারটি উপস্থাপন করব।”

এখনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি কোনো দেশ

নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত এই জোট নিয়ে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কোনো রাষ্ট্র, এমনকি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের যে দুই রাষ্ট্রকে জোটের সদস্য হিসেবে প্রস্তাব করেছেন নেতানিয়াহু— সেই গ্রিস এবং সাইপ্রাস উভয়েই নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর সদস্যরাষ্ট্র। গাজায় সামরিক অভিযানের নামে ব্যাপক হারে ফিলিস্তিনিদের হত্যার অভিযোগে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি। সেই পরোয়ানা এখনও বহাল আছে।

ভারত কি হেক্সাগনে যোগ দেবে?

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ, গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী মিত্র ভারত। তবে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত জোটে ভারত যোগ দেবে কি না— তা এখনও পুরোপুরি অনিশ্চিত। কারণ নয়াদিল্লি বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, চীন, ইউরোপ প্রভৃতি বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী। এর বাইরে যে কোনো ধরনের অনমনীয় বা কঠোর ভাবাপন্ন ভূ-রাজনৈতিক জোট দিল্লি এড়িয়ে চলে।

তাছাড়া আরও ব্যাপার আছে। ভারতের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস শত শত বছরের। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে ভারত।

যদি এই জোটে ভারত যুক্ত হয়, তাহলে ইরানের সঙ্গে নয়াদিল্লির বন্ধুত্ব গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ভারতের যে নিরপেক্ষ অবস্থান— তা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

লন্ডনের কিংস কলেজের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেস ক্রেইগ এ প্রসঙ্গে আলজাজিরাকে বলেছেন, “নেতানিয়াহুর এই জোট মূলত একটি আঞ্চলিক মেরুকরণ প্রকল্প। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব ভালো এবং আমার মনে হয়, ভারত-ইসরায়েলের সম্পর্কের সীমা এ পর্যন্তই থাকবে। কারণ শুধু এই জোট নয়, আঞ্চলিক মেরুকরণ সংক্রান্ত যে কোনো প্রকল্পে যোগ দিলে যে শেষ পর্যন্ত তা লাভজনক হবে না— সে সম্পর্কে নয়াদিল্লি ওয়াকিবহাল।”

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়