শনিবার, ২রা মে ২০২৬, ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি

বোরখা পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন দেয় পরিচ্ছন্নতা কর্মী : পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২ মে ২০২৬, ২২:০৮

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুনের ঘটনাটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না; এটি ছিল একটি ‘উদ্দেশ্যমূলক’ নাশকতা। পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে বোরখা পরে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন আসমাউল ইসলাম নামের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শনিবার (০২ মে) রাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, শুক্রবার (১ মে) ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ওই স্টোররুমে মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ রাখা ছিল। আগুনে ৩৩টা ল্যাপটপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ, ২৯টি বেশি পুড়ে যায়, ১৪০টি ল্যাপটপ পুরোপুরি পুড়ে যায় আর ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত ছিল। হিসেব অনুযায়ী বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের ‘হদিস মেলেনি’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে কোনো কিছু সরানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো হদিস মিলছে না। আগুনে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই তথ্যপ্রযুক্তি ও তদন্তের মাধ্যমে জড়িত একজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তিনি হলেন মাস্টাররোলে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী আসমাউল ইসলাম। তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও তিনজনের সংশ্লিষ্টতার কথা জানা যায়। আসমাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস, মাস্টাররোলে কর্মরত স্টোরকিপার হুমায়ুন কবীর খান।

ডিসি মোস্তাক বলেন, হৃদয় নামের আরেক অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল যে মোটিভ এবং পরিকল্পনায় তাদের বাইরে আর কেউ আছে কি না সেগুলো বের করতে কাজ করছি। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করব, আশা করি মূল মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হব।’

পুলিশ জানায়, স্টোররুমের মালামাল নষ্ট করার জন্য আসমাউলকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ‘এই কাজের জন্য ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল, যার মধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে আসমাউল বিভিন্ন জিনিসপত্রও কিনেছেন।’

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়