মঙ্গলবার, ২৪শে মার্চ ২০২৬, ১০ই চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
মার্কিন সামরিক বাহিনী যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অচল’ করে দেবে তেহরান। একই সঙ্গে আরব উপসাগরে থাকা মার্কিন সব জাহাজকে ‘ডুবিয়ে’ দেবে ইরানের সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও দেশটির প্রভাবশালী ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি ওই হুমকি দিয়েছেন।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘আমেরিকাকে বাঁচানোর চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে আসছে’’ এবং এই জলাভূমি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্ধারের খুব বেশি সময় বাকি নেই।
যদিও ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দু’টি গ্যাস স্থাপনা এবং একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ বলেছে, ইহুদিবাদী ও মার্কিন শত্রুদের চলমান হামলার অংশ হিসেবে ইসফাহানের কাভেহ স্ট্রিটে অবস্থিত গ্যাস প্রশাসন ভবন এবং গ্যাস প্রেশার রেগুলেশন স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় এসব স্থাপনা ‘‘আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত’’ হয়েছে বলে ফারস নিউজ জানিয়েছে। তবে সেখানকার স্থানীয় কোনও সূত্রের নাম উল্লেখ করেনি দেশটির এই সংবাদমাধ্যম। এছাড়া ইরানের একমাত্র সংবাদমাধ্যম হিসেবে গ্যাস স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার খবর দিয়েছে ফারস নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোররামশাহর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্যাস পাইপলাইনেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইরাক সীমান্তবর্তী ওই শহরের গভর্নর বলেছেন, খোররামশাহর গ্যাস পাইপলাইন প্রসেসিং স্টেশনের বাইরের এলাকায় একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। তবে অবকাঠামোটি স্বাভাবিকভাবে সচল রয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির আলোচনা খুব ভালোভাবেই চলছে। এর কিছুক্ষণ আগেই তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এবং দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার বিষয়ে পাঁচ দিনের বিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেওয়া হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে বলে তেহরানকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজের অবস্থান আকস্মিকভাবে পরিবর্তন করেন ট্রাম্প। তবে ইরানের সরকারি সব সংবাদমাধ্যম বলছে, বর্তমানে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা চলছে না।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)