বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল ২০২৬, ২৬শে চৈত্র ১৪৩২
প্রতীকী ছবি
জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগের তির কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। জাহিদুর রহিম সাবেক চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর (লিটন চৌধুরী) ঘনিষ্ঠ (ক্যাশিয়ার) এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, গত কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাসকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রেকর্ডপত্র হাতে পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক সূত্র জানায়, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত ‘এসআইএস’ সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই উন্নয়ন কাজের আড়ালে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ বা কেনাকাটায় প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই কৌশলে শত কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেই সময় জাহিদুর রহিমের প্রতিষ্ঠান সিস্টেমটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা মেরামতের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানায় এবং একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) জমা দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, কেবল সিস্টেমটি পরীক্ষার জন্যই প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন ও সম্মানী বাবদ প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পুরো সিস্টেমটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার একটি উচ্চমূল্যের প্রাক্কলন তৈরি করার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।
দুদক যেসব নথিপত্র তলব করেছে
অনুসন্ধান কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে প্রধানত চার ধরনের রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। তলব করা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
টেন্ডার ও ক্রয় নথিপত্র: কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের মাধ্যমে সংসদ ভবনের এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা, মেরামত ও সংস্কারের কার্যাদেশ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার যাবতীয় রেকর্ডপত্র।
অনুমোদন ও কমিটি সংক্রান্ত তথ্য: মালামাল ক্রয়ের চাহিদাপত্র, প্রশাসনিক অনুমোদন, বাজার যাচাই প্রতিবেদন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির রেজুলেশন, মালামাল সরবরাহের কার্যাদেশ এবং গুণগত মান যাচাইয়ের সার্টিফিকেট।
হিসাব ও নিরীক্ষা: বিল পরিশোধের ভাউচার, স্টক রেজিস্ট্রার, নোটশিট এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট নথির সত্যায়িত ফটোকপি।
ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন: ৫ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের এসআইএস সিস্টেমসহ দাপ্তরিক অফিসের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ও নথির তালিকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য: এসআইএস সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নাম, পদবি ও বর্তমান ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য।
এছাড়া সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে দুদক।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)