বুধবার, ১৫ই এপ্রিল ২০২৬, ২রা বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ মিসরাতা মিউনিসিপালিটির মেয়র মাহমুদ আল-সাগুত্রির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) মিসরাতায় মেয়র আল-সাগুত্রির দপ্তরে হওয়া বৈঠকে মিসরাতা শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মেয়র বলেন, মিসরাতা লিবিয়ার অন্যতম নিরাপদ শহর এবং মিউনিসিপালিটি সব বাসিন্দাদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা শহরের বিভিন্ন সেবা খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ প্রেক্ষিতে শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিউনিসিপালিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির চেয়ারম্যান ও জেনারেল ম্যানেজার জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মসম্পাদন মিউনিসিপালিটির সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা কর্মীদের লিবিয়ায় নিয়োগের পূর্বে কাজের ধরন ও পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কর্মরত কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কোম্পানি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান।
রাষ্ট্রদূত মিসরাতায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশি পেশাজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
তিনি বৃহত্তর মিসরাতা অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পরিচয়পত্র (বেতাকা) প্রদান করার প্রস্তাব দেন, যাতে তাদের সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়। এ বিষয়ে দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মেয়র প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং মিউনিসিপালিটির সুনির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত পাবলিক সার্ভিস কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের চুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বেতন রেমিট্যান্স আকারে প্রেরণ, কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন।
উভয় পক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)