বুধবার, ৪ঠা মার্চ ২০২৬, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩২


দ্বিতীয় ফাইনালে চোখ রেখে মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালের ভালো দিক হলো, ফাইনালে অন্তত একটি দলকে সমর্থন দিতে পারবে নিরপেক্ষ দর্শকরা। যে কোনো বৈশ্বিক ইভেন্টে শিরোপার আশায় নামা দল দুটি ২০০০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত আইসিসির কোনো সাদা বলের ট্রফি জিততে পারেনি। আরেকবার সেই লক্ষ্য অর্জনে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে নামছে তারা।

এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকার হৃদয়ভঙ্গের গল্পগুলো বেশ পুরোনো। তবে নিউজিল্যান্ড গত দুই দশকে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি ধারাবাহিকভাবে সেমিফাইনালে উঠেছে। কিন্তু এই পর্যায়ে থেকে শিরোপা জেতার জন্য প্রয়োজনীয় টানা দুটি ম্যাচ জিততে পারেনি এখনো।

এই দল দুটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। তবে এবার এক দল স্পষ্ট ফেভারিট। দক্ষিণ আফ্রিকা এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত এবং এর মধ্যে গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বড় জয়ও তাদের আছে। তারা তাদের সব ম্যাচ ভারতে খেলেছে। তাতে স্পিনের ওভারব খুব বেশি নির্ভর না করে তাদের শক্তির জায়গা ফাস্ট বোলারদের পূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।

অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ১৭৫ স্ট্রাইক-রেটে ২৬৮ রান নিয়ে সম্ভবত এই টুর্নামেন্টের সেরা ওপেনার। অন্যদিকে ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস এবং মার্কো জানসেনের সমন্বয়ে গঠিত মিডল ও লোয়ার অর্ডার যেকোনো দলের জন্য ঈর্ষণীয়। জানসেন, করবিন বশ, কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডি এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকা বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তাদের দারুণ গতির সঙ্গে বৈচিত্র্যও রয়েছে। আর কেশভ মহারাজ স্পিন ওভারগুলো সামলে নিচ্ছেন। এটা কল্পনা করা কঠিন যে, দক্ষিণ আফ্রিকা কীভাবে তাদের সব দিক এত নিখুঁতভাবে গুছিয়ে নিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের চলতি বিশ্বকাপে পথচলা তুলনামূলক অনেক কম সহজ ছিল। তাদের মান ও সামর্থ্য দিয়ে এই শিরোপার জন্য লড়াই করার ক্ষমতার আসল ধরণ পরিমাপ করা বেশ কঠিন। তারা গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছে। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। পরে ইংল্যান্ডের কাছে হার সেমিফাইনালের লড়াইয়ে তাদেরকে কোয়ালিফাই করার জন্য বাইরের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছিল। শেষ চারে তাদের জায়গা পাওয়ার পেছনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি দাপুটে জয় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সেটাও খুব সহজে হয়নি।

তাদের মানিয়ে নিতে হয়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতে খেলার পর সুপার এইটের জন্য তারা শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিল। তারা আবারো ভারতে ফিরেছে, সেমিফাইনালের ভেন্যু কলকাতায়।
খুব সম্ভবত তাদের স্পিনারদের ব্যবহার কমিয়ে কমিয়ে আবারো গতির বোলারদের দিকে ঝুঁকতে দেখা যাবে। তাদের শক্তির জায়গা হলো একটি শক্তিশালী টপ-অর্ডার, যেখানে ফিন অ্যালেন এবং টিম সাইফার্ট ধারাবাহিকভাবে বিধ্বংসী ফর্মে আছেন। এছাড়া একাধিক অলরাউন্ডার থাকায় বোলিংয়ে অনেক নমনীয়তা, ব্যাটিং অর্ডারে গভীরতা রয়েছে। ফাস্ট বোলাররা দলের ভারসাম্য নষ্ট না করে দ্রুতই স্পিনারদের জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কখনো নিউজিল্যান্ডের কাছে তারা হারেনি। পাঁচবারের দেখায় সবগুলো জিতেছে তারা। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে তাদের প্রথমবার দেখা হচ্ছে। অবশ্য ৫০ ওভারের আইসিসি ইভেন্টের নকআউটে তাদের দেখা হয়েছিল এবং একটি কোয়ার্টার ফাইনাল ও দুটি সেমিফাইনাল জিতে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।

দুই দলই দীর্ঘ সময় ধরে ট্রফির জন্য দরজায় কড়া নাড়ছে। আরেকবার তারা এই আশায় লড়াই করবে যে, এবার হয়তো তাদের প্রচেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখবে। তবে এটা নিশ্চিত যে দলই জিতুক, দ্বিতীয়বার ফাইনালে পা রাখবে একটি দল। গত আসরে ভারতের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়